ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

হিমাচলে ৯ ‘জলবোমা’, হিমবাহ গলে বাড়ছে বিপর্যয় ও বন্যার ঝুঁকি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের হিমাচল প্রদেশের উচ্চভূমিতে দ্রুত বাড়ছে হিমবাহ-হ্রদের সংখ্যা ও আয়তন। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মান্ডির গবেষকেরা হিমাচলের এমন ৯টি হ্রদকে সম্ভাব্য ‘জলবোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই হ্রদগুলোর প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের উপত্যকায় নেমে এসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। নেপালে সম্প্রতি ঘটা নজিরবিহীন বন্যার ঘটনার পর হিমাচলের এই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

আইআইটি মান্ডির স্কুল অব সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেরিকস পি. শুক্লা এবং তার ছয় সদস্যের গবেষক দল স্যাটেলাইট ছবি ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গত দশ বছরে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ-হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে হিমাচল প্রদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ২ হাজার ৭৬টি হিমবাহ-হ্রদ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৭১০টি বেশি। একই সময়ে হ্রদগুলোর মোট আয়তনও ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৯টি হ্রদ হলো—কালিকুন্ড, চন্দ্রতাল, বাসুকি, সুরাই, কিয়া সো, ইয়োচে, সামুদ্রা তাপু, কাসাং ও গেপাং গাথ। এর মধ্যে লাহুল-স্পিতি জেলার গেপাং গাথ হ্রদের আয়তন ২ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার, কিন্নৌরের কাসাং হ্রদের আয়তন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার এবং চাম্বা ও কাঙড়া জেলার কালিকুন্ড হ্রদের আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাড়া ঢালবেষ্টিত কালিকুন্ড হ্রদটিকে গবেষকরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ বলা হয়। এই ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে ভূমিকম্প, ভূমিধস কিংবা পর্যটকদের আনাগোনা। পর্যটন এলাকায় হিমবাহের ওপর জমা হওয়া ধুলা সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে, যা বরফ গলার গতিকে ত্বরান্বিত করে। এই সম্ভাব্য বিপদজনক এলাকার নিচে ১৫টির বেশি সেতু, জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে।

সরকারি পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশন (সিডব্লিউসি) ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) চারটি হিমবাহ-হ্রদকে সংবেদনশীল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। হিমাচল প্রদেশ সরকার এই চারটি হ্রদে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ১০৫ কোটি রুপি চেয়েছে। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ হিমাচলের পরিবেশগত সংকট নিয়ে সতর্ক করে বলেছিল, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পুরো হিমাচল প্রদেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো দিন আসতে পারে। গবেষকরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে, হিমালয় অঞ্চলের ৬৮১টি হিমবাহ-হ্রদের পানি প্রবাহের সম্ভাব্য পথ ও নিচের দিকে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিশ্লেষণ করবে সিডব্লিউসি। এসব হ্রদের ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাসের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করবে এনডিএমএ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

হিমাচলে ৯ ‘জলবোমা’, হিমবাহ গলে বাড়ছে বিপর্যয় ও বন্যার ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের হিমাচল প্রদেশের উচ্চভূমিতে দ্রুত বাড়ছে হিমবাহ-হ্রদের সংখ্যা ও আয়তন। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মান্ডির গবেষকেরা হিমাচলের এমন ৯টি হ্রদকে সম্ভাব্য ‘জলবোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই হ্রদগুলোর প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের উপত্যকায় নেমে এসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। নেপালে সম্প্রতি ঘটা নজিরবিহীন বন্যার ঘটনার পর হিমাচলের এই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

আইআইটি মান্ডির স্কুল অব সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেরিকস পি. শুক্লা এবং তার ছয় সদস্যের গবেষক দল স্যাটেলাইট ছবি ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গত দশ বছরে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ-হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে হিমাচল প্রদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ২ হাজার ৭৬টি হিমবাহ-হ্রদ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৭১০টি বেশি। একই সময়ে হ্রদগুলোর মোট আয়তনও ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৯টি হ্রদ হলো—কালিকুন্ড, চন্দ্রতাল, বাসুকি, সুরাই, কিয়া সো, ইয়োচে, সামুদ্রা তাপু, কাসাং ও গেপাং গাথ। এর মধ্যে লাহুল-স্পিতি জেলার গেপাং গাথ হ্রদের আয়তন ২ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার, কিন্নৌরের কাসাং হ্রদের আয়তন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার এবং চাম্বা ও কাঙড়া জেলার কালিকুন্ড হ্রদের আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাড়া ঢালবেষ্টিত কালিকুন্ড হ্রদটিকে গবেষকরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ বলা হয়। এই ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে ভূমিকম্প, ভূমিধস কিংবা পর্যটকদের আনাগোনা। পর্যটন এলাকায় হিমবাহের ওপর জমা হওয়া ধুলা সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে, যা বরফ গলার গতিকে ত্বরান্বিত করে। এই সম্ভাব্য বিপদজনক এলাকার নিচে ১৫টির বেশি সেতু, জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে।

সরকারি পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশন (সিডব্লিউসি) ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) চারটি হিমবাহ-হ্রদকে সংবেদনশীল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। হিমাচল প্রদেশ সরকার এই চারটি হ্রদে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ১০৫ কোটি রুপি চেয়েছে। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ হিমাচলের পরিবেশগত সংকট নিয়ে সতর্ক করে বলেছিল, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পুরো হিমাচল প্রদেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো দিন আসতে পারে। গবেষকরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে, হিমালয় অঞ্চলের ৬৮১টি হিমবাহ-হ্রদের পানি প্রবাহের সম্ভাব্য পথ ও নিচের দিকে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিশ্লেষণ করবে সিডব্লিউসি। এসব হ্রদের ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাসের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করবে এনডিএমএ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh