নেপালে টানেলে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে এক সপ্তাহ পরও রুদ্ধশ্বাস অভিযান
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা পড়া কয়েক ডজন শ্রমিকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী দেশটির কর্তৃপক্ষ। হিমবাহ ধসের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও নেপালি সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে নেপাল-চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়ে, যার ফলে ব্যাপক পানির ঢল নামে। এই স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর উপত্যকাকে প্লাবিত করে। পানির সাথে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে একের পর এক গ্রাম, সেতু এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুই নদীর তীরে অবস্থিত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৬৩৯ জন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে রাসুওয়াগাধি ও আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পেই প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে রাসুওয়া জেলায় অবস্থিত। বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে এটি অত্যন্ত দুর্গম এবং হেলিকপ্টার ছাড়া সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, টানেলের ভেতরে এখনো বায়ু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শ্রমিকদের টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে। শাহী নামের একজন নেপালি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে হেঁটে প্রবেশ করা সম্ভব এমন একমাত্র প্রকল্প এটি। তিন দিন আগে সেনাবাহিনী প্রবেশের চেষ্টা করলেও কক্ষটির সন্ধান পায়নি, তবে নতুন করে অভিযান শুরু করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের টানেলের প্রবেশপথ ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা পড়ায় উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছাতে ছয় দিন সময় নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে একটি শুকনো জায়গা থাকার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। বর্তমানে সেখানে প্রবেশের পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং একই সাথে নিখোঁজদের লাশ উদ্ধারের কাজও চলবে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।



























