জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৪০
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম কঠোর করতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শিশুদের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় এখন থেকে তাদের মা-বাবার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন সংক্রান্ত অবস্থার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। মূলত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী শিশুর পাসপোর্টের আবেদনের সময় মা-বাবাকে তাদের নিজস্ব মার্কিন পাসপোর্ট, জন্মসনদ, গ্রিন কার্ড কিংবা আই-৯৪ ফর্মের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করতে হতে পারে। এসব তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকার নির্ধারণ করবে যে, সংশ্লিষ্ট শিশুটি রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখে কি না।
এই নতুন আদেশের মূল লক্ষ্য হলো 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তান জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করা বন্ধ করা। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব শিশুর মা বা বাবা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন, তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি এবং 'বিদেশি শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তানরাও এই নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কেবল সেইসব শিশুই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে, যাদের অন্তত একজন অভিভাবক মার্কিন নাগরিক অথবা গ্রিন কার্ডধারী বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পের সেই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। বর্তমান নতুন আদেশটিও ইতিমধ্যে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান এই আদেশটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং এ সংক্রান্ত মামলাটি সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কোনো শিশুর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে গেলে মা-বাবার নাগরিকত্বের আলাদা কোনো প্রমাণ সাধারণত জমা দিতে হয় না। তবে নতুন এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত এই নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।




























