আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলো ইমরান খানকে
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদিয়ালা কারাগার থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি।
দেশের সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের নির্দেশনার পর তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২৩ সালে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে এটি ইমরান খানের জন্য আদালত থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ইমরান খান বরাবরই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেলেও, মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে দেখা করেন।
ইমরান খানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কারাগারে তিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। আইনজীবীদের দাবি, সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তার চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন।
বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, ইমরান খানের জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। এদিকে, দলের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার এবং কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য আদালত পিটিআইকে সতর্ক করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইমরান খানকে ২০২৩ সালের আগস্টে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের মতো অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে একটি পৃথক মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবিসহ তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সমর্থকদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীকালে কর্তৃপক্ষের ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটেছে।


























