ভারত থেকে ছড়ানো ভুয়া তথ্যে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ভারতের একটি অজ্ঞাত এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ আগস্ট ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে নিয়ে একটি মিথ্যা উদ্ধৃতি প্রচার করা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, জেনারেল ভাহিদি বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাবে। পোস্টটির সঙ্গে ভাহিদির ছবি এবং এআই-তৈরি পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন দাবিরও কোনো ভিত্তি নেই।
এই ভুয়া তথ্যটি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে, যাকে বিশ্লেষকরা ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’ বলছেন। পোস্টটির দুই ঘণ্টার মধ্যে ভারতের আরেকটি অ্যাকাউন্ট সেটির হিন্দি অনুবাদ প্রকাশ করে। এরপর ‘মোসাদ কমেন্টারি’ নামের একটি ইসরাইলি অ্যাকাউন্ট দাবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়, যদিও এই অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কোনো নিশ্চিত সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ কথিত বক্তব্যটিকে ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে প্রচার করে। তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তৃতায় উঠে আসে, যেখানে তিনি এটিকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট দাবিটি শেয়ার করেন। ফক্স নিউজও এটি সম্প্রচার করে। তবে সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ওয়াল্টজ তার পোস্টটি সরিয়ে নেন এবং ফক্স নিউজ ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবিকে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক বলে দাবি করে আসছে। ঘটনাটি দেখিয়েছে কীভাবে ভুয়া তথ্য বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে বারবার প্রচারিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সত্য বলে মনে হতে পারে।



























