ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুত নিয়ে আপস করবে না ইরান হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের স্ত্রী মেলানিয়া আমাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন: ডনাল্ড ট্রাম্প আগামী সোমবার চূড়ান্ত হবে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির রিয়েলমি সি১০০ বাজারে এল মিশরের কায়রোতে আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত অগ্রণী ব্যাংকের ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী দল ১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা ঢাবিতে নিকাবধারী শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

জাপানের চিবা অঞ্চলে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতে ৬ জনের মৃত্যু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা অঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। টোকিওর কাছাকাছি অবস্থিত এই অঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্যোগের প্রভাবে ২০ হাজারের বেশি বসতবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ফাইভ’ জরুরি সতর্কতা জারি করে। শুক্রবার সকালে সতর্কতার মাত্রা লেভেল ফোরে নামিয়ে আনা হলেও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই সাংবাদিকদের জানান, জাপানের আবহাওয়ার রেকর্ডে এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। তিনি বলেন, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার আগে হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা আগস্টের স্বাভাবিক গড়ের তিন গুণ। দেশটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও আসাহি শিমবুন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন, যিনি প্লাবিত সড়কে গাড়ির ভেতরেই পানিতে ডুবে মারা যান। এছাড়া আরও দুজন রাস্তায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং গভর্নর কুমাগাই জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ভারী বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকালে বেশ কিছু রেল পরিষেবা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়। তবে নারিতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সব নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ফ্লাইটে কিছু বিলম্ব হতে পারে, তবে বড় ধরনের বাতিলের আশঙ্কা কম। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইচিকাওয়া শহরের এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা অপ্রস্তুত ছিলেন এবং বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাব জাপানের বাইরেও পড়েছে। বন্যার আশঙ্কায় ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের স্কুল ও সরকারি কার্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীন ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের ঝড়ের কবলে পড়েছে। ডলফিনের প্রভাবে ওকিনাওয়া দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ বৃষ্টি কমে আসার পরও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানের চিবা অঞ্চলে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতে ৬ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা অঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। টোকিওর কাছাকাছি অবস্থিত এই অঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্যোগের প্রভাবে ২০ হাজারের বেশি বসতবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ফাইভ’ জরুরি সতর্কতা জারি করে। শুক্রবার সকালে সতর্কতার মাত্রা লেভেল ফোরে নামিয়ে আনা হলেও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই সাংবাদিকদের জানান, জাপানের আবহাওয়ার রেকর্ডে এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। তিনি বলেন, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার আগে হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা আগস্টের স্বাভাবিক গড়ের তিন গুণ। দেশটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও আসাহি শিমবুন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন, যিনি প্লাবিত সড়কে গাড়ির ভেতরেই পানিতে ডুবে মারা যান। এছাড়া আরও দুজন রাস্তায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং গভর্নর কুমাগাই জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ভারী বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকালে বেশ কিছু রেল পরিষেবা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়। তবে নারিতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সব নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ফ্লাইটে কিছু বিলম্ব হতে পারে, তবে বড় ধরনের বাতিলের আশঙ্কা কম। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইচিকাওয়া শহরের এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা অপ্রস্তুত ছিলেন এবং বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাব জাপানের বাইরেও পড়েছে। বন্যার আশঙ্কায় ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের স্কুল ও সরকারি কার্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীন ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের ঝড়ের কবলে পড়েছে। ডলফিনের প্রভাবে ওকিনাওয়া দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ বৃষ্টি কমে আসার পরও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy