তদন্তের মধ্যেই নেপালে ফিরলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা দীর্ঘ পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তার বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তবে এই ফেরাটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় ঘেরা একটি পরিস্থিতির সূচনা করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা দেউবার বাসভবনে নগদ অর্থ পুড়িয়ে দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি চিকিৎসার কথা বলে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। তার এই দীর্ঘ বিদেশযাপন এবং চিকিৎসার খরচ কে বহন করেছে, তা নিয়ে জনমনে প্রবল প্রশ্ন রয়েছে। এর আগে জেন-জি আন্দোলনের সময় তৎকালীন কে. পি. শর্মা ওলি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের দমন-পীড়নের ফলে তীব্র জনরোষের মুখে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বর্তমানে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আবেদনের ভিত্তিতে দেউবা ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। যদিও নেপাল সরকার ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ২৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে। এই আইনি স্বস্তির পরই দেউবা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দেউবার দেশের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। তার স্ত্রী আরজু দেউবা ও ছেলে জয়বীর এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের সময় দেউবা দম্পতি হামলার শিকার হয়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, তবে তাদের দীর্ঘ অবস্থানের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হংকংয়ে তাদের ঘোরাফেরার ভিডিও ছড়ালেও তারা সেখানে থাকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। উল্লেখ্য, শের বাহাদুর দেউবা নেপালে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১৪আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৪৭
উল্লেখ্য, শের বাহাদুর দেউবা নেপালে বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৩ জুলাই ২০২১ প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।




























