বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের হামলায় ৪ নাবিক নিহত, ওমান সাগরে মার্কিন হামলা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজের চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন। মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামের ওই জাহাজে হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা এটিই প্রথম।
হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা দাবি করেছে, তিহামাহ জাহাজটি সৌদি আরবের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। তবে এ বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে একই দিনে উপসাগরীয় ওমান সাগরে পানামার পতাকাবাহী আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ওই জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি না থামায় এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে জাহাজটির দিক পরিবর্তনের যন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়ে।
পাঁচ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই এই দুটি হামলার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা ম্লান হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নিলে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—তাদের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ পারাপার হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার এক নতুন দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, গত ৫০ বছরের যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি এক ধরনের আলোচনা চালাচ্ছেন এবং ইরানিরা আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত চতুর। তবে বর্তমান এই অনিশ্চয়তা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলেও তিনি আভাস দিয়েছেন। রেজাইয়ের বক্তব্যের বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এরই মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি আরও সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, বিপ্লবী গার্ড এমন সক্ষমতা অর্জন করছে যাতে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযান চালানো যায়। বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেই জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে চরম অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।



























