ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের ১৮০ দিনের কাজের মূল্যায়ন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের হুমকির মুখে গোপনে তুরস্ক ছাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তবে মানুষ হিসেবে নষ্ট: তথ্য উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মাইদুলেরও মৃত্যু চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে দেড় কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ চার সন্তানকে বড় করা বাবার শেষ পরিণতি বৃদ্ধাশ্রমে, পাশে নেই কেউ চট্টগ্রামে বহুতল ভবনে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক, সন্দেহের তির রায়হানের দিকে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চার সন্তানকে বড় করা বাবার শেষ পরিণতি বৃদ্ধাশ্রমে, পাশে নেই কেউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্ত্রী বিয়োগের পর দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে আগলে বড় করেছিলেন ঘনশ্যাম। ভারতের ভোপালের ইন্দোরে সাইকেলের টায়ার ও টিউব বিক্রির ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাতেন তিনি। স্ত্রী যখন মারা যান, তখন তার সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। সন্তানদের সুমানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই বাবা। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে সেই সন্তানদের কাছ থেকে পাননি প্রত্যাশিত ভালোবাসা বা যত্ন।

জীবনের শেষ চারটি বছর ঘনশ্যাম কাটিয়েছেন ভোপালের ‘আপনা ঘর’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে আসার সময় তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন; ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না এবং কথা বলতেও কষ্ট হতো। বৃদ্ধাশ্রমে আসার আগে তিনি ইন্দোর থেকে বাসে চড়ে ভোপালের আইএসবিটি টার্মিনালে পৌঁছালে কয়েকজন তরুণ সমাজকর্মী তাকে উদ্ধার করে ‘আপনা ঘর’-এ নিয়ে আসেন।

গত ৪ আগস্ট ৭০ বছর বয়সে এই বৃদ্ধাশ্রমে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের সদস্যদের বারবার খবর দিয়ে ভোপালে আসার অনুরোধ জানালেও তারা নানা অজুহাত দেখান। এক পর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, তারাই যেন শেষকৃত্য সম্পন্ন করে মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে দেয়।

‘আপনা ঘর’-এর পরিচালনাকারী মাধুরী মিশ্র জানান, ঘনশ্যামের ইন্দোরে একটি ছোট বাড়ি ছিল, যা বিক্রি করে অর্থ সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষ থেকে যখন জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করা হয়, তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি তাকে চিনি না। আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ আরও বলা হয়, বাবার বাড়ির টাকা ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে এবং এরপর তাদের সঙ্গে ঘনশ্যামের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

মাধুরী মিশ্রের মতে, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এক মেয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে বাবা সম্পত্তি ছেলেদের দিয়ে দিয়েছেন, তাই তিনি কেন যাবেন? আবার ছেলেদের পক্ষ থেকে উল্টো প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ‘তিনি আমাদের জন্য কী করেছেন?’

দীর্ঘদিন মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ পরিবারের অপেক্ষায় ছিল। ইন্দোরের পঞ্চবটি এলাকায় যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ঘনশ্যামের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মাধুরী মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি ঘনশ্যামের মৃত্যুসনদ পরিবারের হাতে তুলে দিতে চান না।

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৮আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২: ০১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

চার সন্তানকে বড় করা বাবার শেষ পরিণতি বৃদ্ধাশ্রমে, পাশে নেই কেউ

আপডেট সময় : ০১:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

স্ত্রী বিয়োগের পর দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে আগলে বড় করেছিলেন ঘনশ্যাম। ভারতের ভোপালের ইন্দোরে সাইকেলের টায়ার ও টিউব বিক্রির ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাতেন তিনি। স্ত্রী যখন মারা যান, তখন তার সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। সন্তানদের সুমানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই বাবা। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে সেই সন্তানদের কাছ থেকে পাননি প্রত্যাশিত ভালোবাসা বা যত্ন।

জীবনের শেষ চারটি বছর ঘনশ্যাম কাটিয়েছেন ভোপালের ‘আপনা ঘর’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে আসার সময় তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন; ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না এবং কথা বলতেও কষ্ট হতো। বৃদ্ধাশ্রমে আসার আগে তিনি ইন্দোর থেকে বাসে চড়ে ভোপালের আইএসবিটি টার্মিনালে পৌঁছালে কয়েকজন তরুণ সমাজকর্মী তাকে উদ্ধার করে ‘আপনা ঘর’-এ নিয়ে আসেন।

গত ৪ আগস্ট ৭০ বছর বয়সে এই বৃদ্ধাশ্রমে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের সদস্যদের বারবার খবর দিয়ে ভোপালে আসার অনুরোধ জানালেও তারা নানা অজুহাত দেখান। এক পর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, তারাই যেন শেষকৃত্য সম্পন্ন করে মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে দেয়।

‘আপনা ঘর’-এর পরিচালনাকারী মাধুরী মিশ্র জানান, ঘনশ্যামের ইন্দোরে একটি ছোট বাড়ি ছিল, যা বিক্রি করে অর্থ সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষ থেকে যখন জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করা হয়, তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি তাকে চিনি না। আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ আরও বলা হয়, বাবার বাড়ির টাকা ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে এবং এরপর তাদের সঙ্গে ঘনশ্যামের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

মাধুরী মিশ্রের মতে, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এক মেয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে বাবা সম্পত্তি ছেলেদের দিয়ে দিয়েছেন, তাই তিনি কেন যাবেন? আবার ছেলেদের পক্ষ থেকে উল্টো প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ‘তিনি আমাদের জন্য কী করেছেন?’

দীর্ঘদিন মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ পরিবারের অপেক্ষায় ছিল। ইন্দোরের পঞ্চবটি এলাকায় যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ঘনশ্যামের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মাধুরী মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি ঘনশ্যামের মৃত্যুসনদ পরিবারের হাতে তুলে দিতে চান না।

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৮আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২: ০১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh