ভারতে মোদির শাসনামলে ১০ বছরে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যা বেড়েছে ৮০ শতাংশ

- আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভারতে গত কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং বারবার পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে দেশব্যাপী গণবিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জুলাই মাসের শেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৮,০৬৮, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,৪৮৮-এ। অর্থাৎ, গত এক দশকে আত্মহত্যার হার বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। পারিবারিক সমস্যার পরেই পরীক্ষায় ব্যর্থতাকে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চারটি পরিবারের হৃদয়বিদারক কাহিনী, যারা এই ব্যবস্থার শিকার হয়েছে। দিল্লির ক্যাব চালক ইন্দ্রধর পান্ডের মেয়ে অংশিকা পান্ডে ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবান। ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে সে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করত এবং খণ্ডকালীন কাজও করত। কিন্তু ৩ মে নিট পরীক্ষা দেওয়ার পর ১২ মে জানতে পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এই খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অংশিকা ১৪ মে আত্মহত্যা করে। তার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে তার আঁকা ছবি ও দেয়ালে লেখা অনুপ্রেরণামূলক বাণী।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা সুফি শাহীন পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনের পর প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল। ২০২৪ সালের ২৫শে অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সুফি শাহীন তার চুল সোজা করে এবং তার প্রিয় পোশাকটি পরে নেয়। বেরোনোর সময় সে তার মায়ের কাছে ১০ টাকা চায়, যেখানে অন্য দিনগুলোতে সে ১০০ টাকা চাইত। তারপর সে তার যৌথ প্রবেশিকা পরীক্ষার (জেইই) ক্লাসের দিকে রওনা হয়। ২০২৫ সালের জেইই পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে সে তার বাবা-মাকে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিল। পরবর্তীতে তার ছোট ভাই মাসুম সারা ভারতে ১৮৮তম স্থান অর্জন করলেও, সেই সাফল্য দেখার জন্য শাহীন বেঁচে নেই।
রাজস্থানের কৃষক রাজেশ কুমারের ছেলে প্রদীপ মাহিচ ডাক্তার হওয়ার জন্য জমি বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছিল। চতুর্থবার নিট পরীক্ষার পর সে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা তার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। ১৫ মে সে আত্মহত্যা করে। একইভাবে, তামিলনাড়ুর অনিতা নামের এক দলিত মেধাবী শিক্ষার্থী নিট পরীক্ষার কারণে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুযোগ হারিয়ে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করে। সে স্কুলে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে ১০০-তে ১০০ পেয়েছিল এবং রাজ্যের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু যখন সে নিট পরীক্ষায় কাট-অফ নম্বরও অর্জন করতে পারল না, তখন সে বুঝতে পারল যে সে ভিন্ন সিলেবাসে পড়াশোনা করছিল। তামিলনাড়ু ইতিমধ্যেই জাতীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সমালোচনা করেছিল – যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ব্যাহত করার জন্য – কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল ভিন্ন। ফলস্বরূপ, রাজ্যটি ২০১৬ সালে নিট থেকে অব্যাহতি পেলেও ২০১৭ সালে পায়নি, যে বছর অনিতা পরীক্ষা দিয়েছিল। তার এই আত্মহত্যার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। অনিতার ভাই এখনো দাবি করেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা উচিত, কারণ নিট পরীক্ষার টিউশন ফি বহন করা সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব।




























