ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, আশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পশ্চিমবঙ্গে লাউডস্পিকার অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ ৮ জন নিহত বগুড়ায় বাসচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত, আহত অন্তত ১০ জেদ্দায় তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই দিল্লিতে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঢাকার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ইরানে হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অন্ধকারে ডোবানোর হুমকি ফারাক্কা পানি চুক্তি নবায়ন না করার আহ্বান জেডিইউ নেতার হামের ঝুঁকিতে টিকার বাইরের শিশুরা, হাসপাতালে বাড়ছে ভর্তি ও মৃত্যু শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা: মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

পশ্চিমবঙ্গে লাউডস্পিকার অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম নেতা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিদ্রোহী অংশ শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তিন বিদ্রোহী সাংসদ—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজ্যের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বিধি অনুযায়ী, দিনের বেলায় শব্দের সর্বোচ্চ সীমা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশকে এই নির্ধারিত ডেসিবেল সীমা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইমামদের অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে প্রচলিত লাউডস্পিকারের পরিবর্তে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসন কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তিনি দাবি করেন, মসজিদ ও মন্দির উভয় ক্ষেত্রেই শব্দ যেন প্রাঙ্গণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ থেকে এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে সরানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশকে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং হিন্দুরা যেমন স্বাধীনভাবে মন্দিরে পূজা করতে পারেন, তেমনি মুসলমানরাও মসজিদে আজান ও নামাজ আদায় করতে পারবেন। সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ সদস্যরা মসজিদে গিয়ে পরিচালনা কমিটিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সমস্যার সমাধান না হলে তিনি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শকের (ডিজিপি) কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে কি না। তিনি শব্দদূষণ বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) প্রণয়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিরোধিতার জবাবে বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদের অধিকার রাখে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখী নীতি পরিহার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, এটি বাবরের শাসন বা তুঘলকি প্রশাসন নয়, তাই শুধু এক পক্ষের মত গ্রহণযোগ্য হবে এমন রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে লাউডস্পিকার অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম নেতা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিদ্রোহী অংশ শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তিন বিদ্রোহী সাংসদ—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজ্যের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বিধি অনুযায়ী, দিনের বেলায় শব্দের সর্বোচ্চ সীমা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশকে এই নির্ধারিত ডেসিবেল সীমা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইমামদের অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে প্রচলিত লাউডস্পিকারের পরিবর্তে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসন কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তিনি দাবি করেন, মসজিদ ও মন্দির উভয় ক্ষেত্রেই শব্দ যেন প্রাঙ্গণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ থেকে এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে সরানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশকে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং হিন্দুরা যেমন স্বাধীনভাবে মন্দিরে পূজা করতে পারেন, তেমনি মুসলমানরাও মসজিদে আজান ও নামাজ আদায় করতে পারবেন। সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ সদস্যরা মসজিদে গিয়ে পরিচালনা কমিটিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সমস্যার সমাধান না হলে তিনি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শকের (ডিজিপি) কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে কি না। তিনি শব্দদূষণ বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) প্রণয়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিরোধিতার জবাবে বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদের অধিকার রাখে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখী নীতি পরিহার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, এটি বাবরের শাসন বা তুঘলকি প্রশাসন নয়, তাই শুধু এক পক্ষের মত গ্রহণযোগ্য হবে এমন রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy