জেদ্দায় তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই
- আপডেট সময় : ১০:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে চলেছে। দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। জেদ্দায় আয়োজিত এক সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করবেন। তবে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট শর্ত বা বিধান সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই তিন নেতা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এএফপি-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছিল এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। এর আগে গত মাসে ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান ও শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে অবদান রাখে—এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি। বর্তমান ইসরায়েলি সরকার, যারা যুদ্ধের প্রতি আসক্ত, তাদের অঞ্চলকে বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এর আগে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাকিস্তান বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের একটি। সেই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, দুই দেশের যেকোনো একটির ভূখণ্ডে হামলা হলে সেটিকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন। সে সময় ওই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল, কারণ ইসরায়েল কাতারের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালানোর এক সপ্তাহ পরই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। একই সময়ে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী একমাত্র দেশ পাকিস্তান।
এদিকে, ইয়েমেনে কয়েক ডজন সেনা নিহত হওয়ার পর রাতভর সৌদি আরবের নাজরান শহরে বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পক্ষে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সৌদি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, যার আঘাত মাঝারি মাত্রার। হামলায় ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিরাও আহত হয়েছেন। এই হামলার আগে সৌদির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। এসব সতর্কবার্তায় অর্থনৈতিক ও বেসামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর এবং বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।



























