সৌদি যুবরাজের আহ্বানে ইরানে নতুন হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

- আপডেট সময় : ১০:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্যমতে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো বৃহত্তর সংঘাত এড়ানো জরুরি যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সৌদি যুবরাজের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরান তার প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
ফোনালাপের পরপরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর আগে শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। তবে তার বর্তমান ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধেই তিনি এই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে, যেখানে ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে।
ট্রাম্পের এই দাবি অবশ্য তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের হুমকির মুখে সৌদি আরব নিজেও সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে জুনে একটি স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। জুলাই থেকে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। এদিকে ইসলামাবাদ ও দোহার মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।






















