ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ৩৮ বারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আবারো ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি আসন্ন, আর সেই কারণেই হামলা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই ধরনের আশ্বাসের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসমাবেশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি কমপক্ষে ৩৮ বার দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা খুব কাছাকাছি অথবা ইরান নিজেরাই চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য ইরান কোনো অনুরোধ করেনি। এই দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে আল রেজা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন, তাই তেহরান শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে এবং তারা চুপ করে থাকবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনে আলোচনা করেছেন। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ক্রাউন প্রিন্স সংঘাত এড়াতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত খবরে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরাইল ইরানের তেল শোধনাগার বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্রবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কোনো হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এর চড়া মাশুল দিতে হবে।
ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পদ ও ভূখণ্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। যারা আক্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, তাদেরও এই যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো দুঃসাহসী পদক্ষেপের জবাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে জোরালো আঘাত হানার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইরান।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ইরানের জ্বালানি খাতে আঘাত হানার প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করলেও, ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেয়নি। কারণ, এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। এছাড়া মার্কিন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহুমুখী সংঘাতের চিত্র স্পষ্ট। লোহিত সাগরে সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলা, ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ এবং ওমান উপকূলে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ ও হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন ভোটারদের এর মাশুল দিতে হবে। তবে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের প্রাথমিক বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। তেহরানের রাস্তায় কঠোর প্রতিশোধের পোস্টার থাকলেও, কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।




























