ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সের বার্তা সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৭ আগস্ট ভৈরবে জানাজায় উসকানিমূলক স্লোগান: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার নতুন প্রকল্পে পুরোনো কর্মীরা ৭ মাস বেতনহীন, নিয়োগ পেয়েছেন লাখ টাকার পরামর্শক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪৫ দেড় মাসেই ভাঙল পদ্মার স্থায়ী বাঁধ, লৌহজংয়ে চরম উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা ঢামেক সাজছে নতুন রূপে, ১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: জ্বালানি সংকট এড়াতে ১৬ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা, দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা, দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও জেনোফোবিয়ার (বিদেশি-বিদ্বেষ) মুখে গত দুই মাসে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিক দেশটি ছেড়ে চলে গেছেন। বিভিন্ন দেশের প্রকাশিত প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিদেশিদের লক্ষ্য করে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা চরম আকার ধারণ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজ নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশের সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বিমান ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিজস্ব উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রত্যাবাসনের এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশ জিম্বাবুয়ে ও মালাউইয়ের ওপর। জিম্বাবুয়ে সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তাদের ৬০ হাজারের বেশি নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। আর মালাউইয়ে ফিরে গেছেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া নাইজেরিয়া সরকারের বিশেষ উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার এবং উগান্ডা, কেনিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার নাগরিক নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। পাশাপাশি মোজাম্বিক, ঘানা ও লেসোথোর নাগরিকরাও ফিরছেন, তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ বেকারত্ব, inflation বা মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার দায় অবৈধ অভিবাসীদের ওপর চাপানোর একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি বৈধভাবে বসবাসকারী বহু ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকও চরম প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই সেখানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে স্থায়ীভাবে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। অভিবাসীদের ওপর চলমান এই সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিদেশি নাগরিকদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা, দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি

আপডেট সময় : ০২:০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও জেনোফোবিয়ার (বিদেশি-বিদ্বেষ) মুখে গত দুই মাসে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিক দেশটি ছেড়ে চলে গেছেন। বিভিন্ন দেশের প্রকাশিত প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিদেশিদের লক্ষ্য করে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা চরম আকার ধারণ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজ নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশের সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বিমান ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিজস্ব উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রত্যাবাসনের এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশ জিম্বাবুয়ে ও মালাউইয়ের ওপর। জিম্বাবুয়ে সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তাদের ৬০ হাজারের বেশি নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। আর মালাউইয়ে ফিরে গেছেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া নাইজেরিয়া সরকারের বিশেষ উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার এবং উগান্ডা, কেনিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার নাগরিক নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। পাশাপাশি মোজাম্বিক, ঘানা ও লেসোথোর নাগরিকরাও ফিরছেন, তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ বেকারত্ব, inflation বা মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার দায় অবৈধ অভিবাসীদের ওপর চাপানোর একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি বৈধভাবে বসবাসকারী বহু ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকও চরম প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই সেখানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে স্থায়ীভাবে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। অভিবাসীদের ওপর চলমান এই সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিদেশি নাগরিকদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh