ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাজীপুরের যমুনার চরাঞ্চলে যাতায়াত সংকট, নৌকাই একমাত্র ভরসা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত সোমবার দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি চীনা সাবমেরিন দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় কোনো আসল যুদ্ধাস্ত্রের বদলে একটি নকল বা ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি টুভালুর কাছাকাছি সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেইজিংয়ের দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এই পরীক্ষা চালানো হয়নি। চীন আরও জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ‘অতিরিক্ত ব্যাখ্যা’ না করার আহ্বান জানিয়ে আগেই অন্য দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল।

তবে বেইজিংয়ের এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং এই পরীক্ষাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে একই দিনে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মধ্যে সই হওয়া নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে চীন পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছে।

পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর নিয়মিত সামরিক চর্চার অংশ হিসেবেই এমন পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও ভারতের মতো দেশগুলোও নিয়মিত অস্ত্রহীন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। বেইজিংয়ের এই পরীক্ষা রাশিয়ার সঙ্গে চীনের চলমান বার্ষিক নৌ-মহড়ার সময়ের সঙ্গে মিলে গেলেও, এটি কাউকে ভয় দেখানোর জন্য করা হয়েছে এমন দাবির পক্ষে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। চীন তাদের ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ বা আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে অটল রয়েছে।

সাবমেরিন থেকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা। এর ফলে কোনো বড় শক্তি চীনের মূল ভূখণ্ডে হামলা করলেও পানির নিচে থাকা সাবমেরিনগুলো টিকে থেকে পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হবে। অস্ট্রেলিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য এই সক্ষমতা প্রদর্শনের বিশেষ কোনো যৌক্তিকতা নেই, কারণ চীনের ভূমি থেকে ছোড়া আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রই এই অঞ্চলের যেকোনো স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। অস্ত্রহীন হলেও এমন পরীক্ষা ওই অঞ্চলের বিমান ও জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এই কারিগরি ত্রুটির বাইরেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরীক্ষা চালালে মিত্র দেশগুলো হয়তো এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাত না। মূলত ভবিষ্যৎ শত্রু ভাবাপন্ন একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনই এই ক্ষোভের মূল কারণ। ড. জেমস ডয়ারের মতে, এই ঘটনাকে নিয়মিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে নাকি ভূ-রাজনৈতিক হুমকির সংকেত, তা মূলত পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই নির্ভর করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে

আপডেট সময় : ০২:৫০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গত সোমবার দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি চীনা সাবমেরিন দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় কোনো আসল যুদ্ধাস্ত্রের বদলে একটি নকল বা ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি টুভালুর কাছাকাছি সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেইজিংয়ের দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এই পরীক্ষা চালানো হয়নি। চীন আরও জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ‘অতিরিক্ত ব্যাখ্যা’ না করার আহ্বান জানিয়ে আগেই অন্য দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল।

তবে বেইজিংয়ের এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং এই পরীক্ষাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে একই দিনে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মধ্যে সই হওয়া নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে চীন পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছে।

পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর নিয়মিত সামরিক চর্চার অংশ হিসেবেই এমন পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও ভারতের মতো দেশগুলোও নিয়মিত অস্ত্রহীন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। বেইজিংয়ের এই পরীক্ষা রাশিয়ার সঙ্গে চীনের চলমান বার্ষিক নৌ-মহড়ার সময়ের সঙ্গে মিলে গেলেও, এটি কাউকে ভয় দেখানোর জন্য করা হয়েছে এমন দাবির পক্ষে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। চীন তাদের ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ বা আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে অটল রয়েছে।

সাবমেরিন থেকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা। এর ফলে কোনো বড় শক্তি চীনের মূল ভূখণ্ডে হামলা করলেও পানির নিচে থাকা সাবমেরিনগুলো টিকে থেকে পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হবে। অস্ট্রেলিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য এই সক্ষমতা প্রদর্শনের বিশেষ কোনো যৌক্তিকতা নেই, কারণ চীনের ভূমি থেকে ছোড়া আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রই এই অঞ্চলের যেকোনো স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। অস্ত্রহীন হলেও এমন পরীক্ষা ওই অঞ্চলের বিমান ও জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এই কারিগরি ত্রুটির বাইরেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরীক্ষা চালালে মিত্র দেশগুলো হয়তো এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাত না। মূলত ভবিষ্যৎ শত্রু ভাবাপন্ন একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনই এই ক্ষোভের মূল কারণ। ড. জেমস ডয়ারের মতে, এই ঘটনাকে নিয়মিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে নাকি ভূ-রাজনৈতিক হুমকির সংকেত, তা মূলত পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই নির্ভর করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo