দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস যেভাবে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকা সাধারণ কিছু খাবার অজান্তেই শরীরে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের অসচেতনতার সুযোগেই এই নীরব ঘাতক শরীরে বাসা বাঁধছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সহজে প্রকাশ পায় না। দীর্ঘদিন এই সমস্যা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এমনকি দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, মিষ্টি পানীয় এবং ফাস্টফুডের মতো খাবারগুলো হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে পানি জমে যায়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। বর্তমানে মানুষের শরীরে যে পরিমাণ সোডিয়াম প্রবেশ করে, তার সিংহভাগই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে।
লবণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং মিষ্টি পানীয়র নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়, যা হাইপারটেনশনের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভাজাপোড়া, পেস্ট্রি, কেক এবং ফাস্টফুডে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালীর ক্ষতি করে। বিশেষ করে বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি এবং হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা সরাসরি হৃদরোগের সাথে জড়িত। পুষ্টিবিদরা তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবুজাতীয় খাবার, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। বিশেষ করে কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু এবং শিম জাতীয় খাবারে থাকা পটাশিয়াম সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হাইপারটেনশন থেকে মুক্ত থাকতে বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও লবণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়র পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সঠিক ওজন বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।





























