নেপালের সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থাকার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সঞ্জয়
- আপডেট সময় : ০২:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্ধকার সুড়ঙ্গে দীর্ঘ নয় দিন আটকা পড়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি পরিচালিত আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন তিনি। আগস্টের শেষ দিকে হিমালয়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার মতো বিপর্যয় ঘটে। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভেতরে আটকা পড়া সঞ্জয় জানান, তার কাছে কোনো খাবার ছিল না। কেবল বন্যার পানি এবং পাহাড়ের পাথর চুঁইয়ে পড়া পানি পান করেই তিনি বেঁচে ছিলেন।
উদ্ধার হওয়ার পর শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চোখে আঘাত পাওয়ার ভয়ে তিনি দীর্ঘ সময় চোখ বন্ধ করে রাখতেন, যার ফলে এক পর্যায়ে তার জন্য চোখ খোলাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্ধকারে চলাফেরা করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা খেতেন, যার ফলে তার শরীরে আঁচড়ের দাগ ও কাটাছেঁড়া হয়েছিল। বন্যার আগে সুড়ঙ্গটির প্রতিটি অংশ তার চেনা থাকলেও, বন্যার পর পুরো কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে। যন্ত্রপাতি ভেসে যাওয়া, দেয়াল ধসে পড়া এবং কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্তরে সুড়ঙ্গটি অচেনা হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে চলাফেরার চেষ্টা করলেও, পরে আরও বিপজ্জনক জায়গায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি একটি নিরাপদ জায়গা বেছে নিয়ে সেখানেই অবস্থান করেন।
হতাশা গ্রাস করতে চাইলে সঞ্জয় হিন্দু ধর্মীয় মহামন্ত্র জপ করে মানসিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন, মরতেই যদি হয়, তবে দ্রুত হাল ছেড়ে দেয়ার কী দরকার—এই চিন্তাই তাকে শান্ত ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দিয়েছিল। ষষ্ঠ তলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পঞ্চম তলায় তিনি অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকে বারবার চিৎকার করে অন্য কারো সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করতেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরিবারের কথা ভেবে এবং উদ্ধারকারী দল আসবে—এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তিনি মনোবল ধরে রেখেছিলেন। সময়ের হিসাব পুরোপুরি হারিয়ে ফেলায় তার মনে হয়েছিল মাত্র দুই-তিন দিন পার হয়েছে, কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পর জানতে পারেন আসলে ১০ দিন কেটে গেছে।
উদ্ধারের প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে তিনি বাইরে মানুষের কাজ করার শব্দ, খননযন্ত্রের গর্জন এবং মইয়ের ধাতব অংশের ঠকঠক শব্দ শুনতে পান। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে সেই নিরাপদ জায়গা থেকেই খুঁজে বের করেন। বর্তমানে কাঠমান্ডুতে বোনের বাসায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।





























