ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন সভ্যতার চালিকাশক্তি তরুণরা, মন্তব্য তথ্যমন্ত্রীর গোদাগাড়ীতে অনিয়মের দায়ে সেবা ক্লিনিক সিলগালা করল ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ রাতে আকাশে দেখা মিলতে পারে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি অবশেষে জর্জিনাকে বিয়ে করলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো একাদশে ভর্তির আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে, পরীক্ষা নেই এবারও হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জমি নিয়ে বিরোধ: ২০ ঘণ্টা বারান্দায় পড়ে রইল বৃদ্ধার মরদেহ তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ, বদলি ১৭ কর্মকর্তা বরিশালে আদালত চত্বরে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক নদী রক্ষায় খুঁটিবিহীন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ওমানে বিপৎসীমায় আটকা পড়া ট্যাংকার থেকে ৪০০ কিমি এলাকায় তেল ছড়িয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ওমানের উপকূলে আটকা পড়া একটি তেলের ট্যাংকার থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত খনিজ তেল বা ক্রুড অয়েল নির্গত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটি সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের পর সেটি সেখানে আটকে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই তেল সাগরের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল আস্তরণ তৈরি করেছে।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটিতে প্রায় দশ লাখ ব্যারেল রুশ তেল বোঝাই ছিল, যা এশিয়ার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। গত ৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলে জাহাজটি প্রথম বিপদের সম্মুখীন হয়। দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের বিষয়টি উঠে এসেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল নিঃসরণ রোধে তারা কাজ করছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক গত বছর এই দ্বীপপুঞ্জের চারপাশকে প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে বিরল প্রজাতির কুঁজযুক্ত তিমি ও সোকোত্রা করমোরেন্টসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে।

পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তেল আস্তরণটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং এর আয়তন ৩৯০ বর্গকিলোমিটার বা ১৫০ বর্গমাইল। তবে পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিস স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এর পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার হতে পারে বলে অনুমান করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তেল যদি সাগরে আটকে রাখা না যায় তবে তা প্রবাল, মাছ ও সামুদ্রিক পাখির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টনি গুটিয়েরেজ জানান, ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় এর প্রভাব বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৭৪ মিটার বা ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল নিঃসরণ অব্যাহত ছিল। স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঘটনাটি ঘটলেও জাহাজটি স্থিতিশীল করতে বা অবশিষ্ট তেল অপসারণে কোনো সরকারি তৎপরতা দেখা যায়নি। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ এপ্রিলে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে তেল বোঝাই করে এবং মে মাসের শেষে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। ২০০১ সালে নির্মিত এই জাহাজটি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ হিসেবে পরিচিত, যা প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে চলাচল করে। জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও জুনে তাদের রেজিস্ট্রি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, বৃটেন, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং এর নিবন্ধিত মালিক রেন্টুর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও ম্যানেজার ভিলার শিপ ম্যানেজমেন্ট, যেগুলো চীনভিত্তিক বলে মনে করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ওমানে বিপৎসীমায় আটকা পড়া ট্যাংকার থেকে ৪০০ কিমি এলাকায় তেল ছড়িয়েছে

আপডেট সময় : ০২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

ওমানের উপকূলে আটকা পড়া একটি তেলের ট্যাংকার থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত খনিজ তেল বা ক্রুড অয়েল নির্গত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটি সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের পর সেটি সেখানে আটকে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই তেল সাগরের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল আস্তরণ তৈরি করেছে।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটিতে প্রায় দশ লাখ ব্যারেল রুশ তেল বোঝাই ছিল, যা এশিয়ার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। গত ৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলে জাহাজটি প্রথম বিপদের সম্মুখীন হয়। দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের বিষয়টি উঠে এসেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল নিঃসরণ রোধে তারা কাজ করছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক গত বছর এই দ্বীপপুঞ্জের চারপাশকে প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে বিরল প্রজাতির কুঁজযুক্ত তিমি ও সোকোত্রা করমোরেন্টসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে।

পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তেল আস্তরণটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং এর আয়তন ৩৯০ বর্গকিলোমিটার বা ১৫০ বর্গমাইল। তবে পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিস স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এর পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার হতে পারে বলে অনুমান করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তেল যদি সাগরে আটকে রাখা না যায় তবে তা প্রবাল, মাছ ও সামুদ্রিক পাখির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টনি গুটিয়েরেজ জানান, ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় এর প্রভাব বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৭৪ মিটার বা ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল নিঃসরণ অব্যাহত ছিল। স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঘটনাটি ঘটলেও জাহাজটি স্থিতিশীল করতে বা অবশিষ্ট তেল অপসারণে কোনো সরকারি তৎপরতা দেখা যায়নি। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ এপ্রিলে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে তেল বোঝাই করে এবং মে মাসের শেষে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। ২০০১ সালে নির্মিত এই জাহাজটি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ হিসেবে পরিচিত, যা প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে চলাচল করে। জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও জুনে তাদের রেজিস্ট্রি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, বৃটেন, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং এর নিবন্ধিত মালিক রেন্টুর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও ম্যানেজার ভিলার শিপ ম্যানেজমেন্ট, যেগুলো চীনভিত্তিক বলে মনে করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin