টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ১৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
- আপডেট সময় : ১১:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

টানা পাঁচদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের শত শত গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দেশজুড়ে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা। চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়েছে। কক্সবাজারের শতাধিক গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ১০ জনই চট্টগ্রাম জেলার। এছাড়া চট্টগ্রামের চার জেলায় পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান ও খাগড়াছড়িসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের ছয়টি বিভাগের কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সব মিলিয়ে ১৮টি জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় উত্তরের কয়েকটি জেলায় বন্যার শঙ্কা কমেছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর ১৭৬টি ইউনিয়নে প্রায় সাত লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। গত রবিবার থেকে জেলায় এক হাজার ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দোহাজারি পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলে দুই শিশুসহ বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ ও ০১৮৭২৬১৫১৩২-এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নিম্নাঞ্চলের ২০ গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। দীঘিনালা–লংগদু ও খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া মহালছড়ি, শালবন, কুমিল্লাটিলা ও হরিনাথপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
সুনামগঞ্জের প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়ছে। শাল্লা উপজেলার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টির কারণে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ ও সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সীমান্ত এলাকা লাউড়েরগড়ে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।



























