ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড

মায়ের স্মৃতির পাতায়: আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় আমি তোমার সন্তান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চিঠি দিবস বলে কোনো দিন আছে তা জানা ছিল না, তবে ২০০৯ সালে মায়ের জন্য একটি চিঠি লিখেছিলাম। অথচ মা তারও ১ বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। চিঠির সেই নিবিড় আবেগ আর লেখার অভ্যাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের টানেই প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিটি আবার নতুন করে মনে পড়ছে।

শৈশবের কথা মনে পড়ে? তখন আমি অনেক ছোট, মায়ের দুধ ছাড়তে চাইছিলাম না। করলার রস কিংবা বাটা মরিচের প্রলেপ দিয়েও মা আমাকে থামাতে পারেননি। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়িতে গেলেও আমার জেদ ছিল একই, আর মাও সেই মজলিশ এড়িয়ে অন্ধকার কোণে গিয়ে আমার বায়না মেটাতেন। সেই সময়টা ছিল মায়ের বুকের মাঝে আমার নিজের পৃথিবীর আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিন। আজ বয়সের সাথে সাথে কত সুগন্ধি ব্যবহার করলাম, কিন্তু মায়ের বুকের সেই ওম জড়ানো প্রশান্তির সুবাস কোথাও খুঁজে পাই না।

আমার শৈশবের ডানপিটে স্বভাব আর পড়াশোনায় অমনোযোগিতার কারণে মা অনেক কিছু ত্যাগ করেছিলেন। পড়াশোনায় আমি বরাবরই সাদামাটা ছিলাম, এমনকি ভালো নম্বর না পাওয়া পরীক্ষার খাতায় বাবার অগোচরে মা-ই ভরসা দিতেন। আজ মায়ের নাতনি নুযহাতকেও দেখি একই রকম, ও যখন পরীক্ষায় আশির নিচে পায়, তখন আমার কাছেই স্বাক্ষর করাতে আসে। ওর মুখের দিকে তাকালে যেন মাকেই দেখতে পাই, মনে হয় মা মিটমিটিয়ে হাসছেন আর বলছেন, ও ঠিকই ভালো করবে।

নিশুতি রাতে যখন ঘুম আসে না, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাই। মেঘের ভেলায় মাঝে মাঝে মায়ের অবয়ব খুঁজে ফিরি। দুচোখ জুড়ে জল নামে, কান্না থামানো দায় হয়ে পড়ে। আজকের এই আমি, যে সামাজিক বলয়ে সংগ্রাম করে নিজের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছি, সে আসলে আমি নই। আমার আসল সত্তা তো মায়ের গড়া সেই ছোট্ট পৃথিবীতেই রয়ে গেছে। তাই কোনো পরিচয়ই আর আমার কাছে বড় নয়, আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়—আমি তোমার সন্তান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মায়ের স্মৃতির পাতায়: আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় আমি তোমার সন্তান

আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিঠি দিবস বলে কোনো দিন আছে তা জানা ছিল না, তবে ২০০৯ সালে মায়ের জন্য একটি চিঠি লিখেছিলাম। অথচ মা তারও ১ বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। চিঠির সেই নিবিড় আবেগ আর লেখার অভ্যাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের টানেই প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিটি আবার নতুন করে মনে পড়ছে।

শৈশবের কথা মনে পড়ে? তখন আমি অনেক ছোট, মায়ের দুধ ছাড়তে চাইছিলাম না। করলার রস কিংবা বাটা মরিচের প্রলেপ দিয়েও মা আমাকে থামাতে পারেননি। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়িতে গেলেও আমার জেদ ছিল একই, আর মাও সেই মজলিশ এড়িয়ে অন্ধকার কোণে গিয়ে আমার বায়না মেটাতেন। সেই সময়টা ছিল মায়ের বুকের মাঝে আমার নিজের পৃথিবীর আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিন। আজ বয়সের সাথে সাথে কত সুগন্ধি ব্যবহার করলাম, কিন্তু মায়ের বুকের সেই ওম জড়ানো প্রশান্তির সুবাস কোথাও খুঁজে পাই না।

আমার শৈশবের ডানপিটে স্বভাব আর পড়াশোনায় অমনোযোগিতার কারণে মা অনেক কিছু ত্যাগ করেছিলেন। পড়াশোনায় আমি বরাবরই সাদামাটা ছিলাম, এমনকি ভালো নম্বর না পাওয়া পরীক্ষার খাতায় বাবার অগোচরে মা-ই ভরসা দিতেন। আজ মায়ের নাতনি নুযহাতকেও দেখি একই রকম, ও যখন পরীক্ষায় আশির নিচে পায়, তখন আমার কাছেই স্বাক্ষর করাতে আসে। ওর মুখের দিকে তাকালে যেন মাকেই দেখতে পাই, মনে হয় মা মিটমিটিয়ে হাসছেন আর বলছেন, ও ঠিকই ভালো করবে।

নিশুতি রাতে যখন ঘুম আসে না, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাই। মেঘের ভেলায় মাঝে মাঝে মায়ের অবয়ব খুঁজে ফিরি। দুচোখ জুড়ে জল নামে, কান্না থামানো দায় হয়ে পড়ে। আজকের এই আমি, যে সামাজিক বলয়ে সংগ্রাম করে নিজের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছি, সে আসলে আমি নই। আমার আসল সত্তা তো মায়ের গড়া সেই ছোট্ট পৃথিবীতেই রয়ে গেছে। তাই কোনো পরিচয়ই আর আমার কাছে বড় নয়, আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়—আমি তোমার সন্তান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh