ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দশক ধরে অকার্যকর সিনেট অধিবেশন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেট দীর্ঘ এক দশক ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, উপাচার্যকে বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ২০১৬ সালের ১৯ মে সর্বশেষ ২২তম অধিবেশনের পর আর কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দীনের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনটি হয়েছিল। এরপর অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের পূর্ণ মেয়াদেও কোনো সিনেট অধিবেশন বসেনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সময়েও সিনেটের কোনো সভা ডাকা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সিনেট কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন ২০তম অধিবেশনের পর টানা ১৪ বছর সিনেট সভা বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম অধিবেশনের মাধ্যমে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট সিনেটে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত ব্যক্তি, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট এবং নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকার কথা।

সিনেট অকার্যকর থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। রাকসু ভিপি ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, শিক্ষার্থীদের ভোটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও তাদের শপথ পড়ানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং এর পেছনে প্রশাসনের বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। আরেক সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা জানান, প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও তারা আশ্বাস ও নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব সিনেট অকার্যকর হওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগের সদস্যদের খুঁজে বের করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক গাফিলতির দায়ভারের বিষয়ে তিনি বর্তমান প্রশাসনের দিকেই ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, রাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আম্মারের মতে, সিনেট সচল করতে হলে নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পার হয়েছে। তিনি সিনেটকে কার্যকর করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সিনেটের মাধ্যমে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে এবং তাদেরই সিনেট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দশক ধরে অকার্যকর সিনেট অধিবেশন

আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেট দীর্ঘ এক দশক ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, উপাচার্যকে বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ২০১৬ সালের ১৯ মে সর্বশেষ ২২তম অধিবেশনের পর আর কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দীনের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনটি হয়েছিল। এরপর অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের পূর্ণ মেয়াদেও কোনো সিনেট অধিবেশন বসেনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সময়েও সিনেটের কোনো সভা ডাকা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সিনেট কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন ২০তম অধিবেশনের পর টানা ১৪ বছর সিনেট সভা বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম অধিবেশনের মাধ্যমে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট সিনেটে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত ব্যক্তি, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট এবং নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকার কথা।

সিনেট অকার্যকর থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। রাকসু ভিপি ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, শিক্ষার্থীদের ভোটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও তাদের শপথ পড়ানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং এর পেছনে প্রশাসনের বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। আরেক সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা জানান, প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও তারা আশ্বাস ও নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব সিনেট অকার্যকর হওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগের সদস্যদের খুঁজে বের করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক গাফিলতির দায়ভারের বিষয়ে তিনি বর্তমান প্রশাসনের দিকেই ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, রাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আম্মারের মতে, সিনেট সচল করতে হলে নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পার হয়েছে। তিনি সিনেটকে কার্যকর করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সিনেটের মাধ্যমে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে এবং তাদেরই সিনেট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh