ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াই শুরু নাটোরে ১৪০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আফ্রিকার দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবার জন্য সৌর অ্যাম্বুলেন্স উদ্ভাবন মঠবাড়িয়ায় পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক লালমোহনে ৫০ ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, ৫ বছরের শিশু নিহত নেপালে বন্যার মরদেহের দুল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ কক্সবাজারে মদের বারে মাতালদের সংঘর্ষ, নিহত ২

জেলা প্রশাসকের পরামর্শে জিপিএ-৫ পেল অভাবী সাদিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকার সাদিয়া আফরিন এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা সাদিয়ার পড়ার জন্য কোনো টেবিলও ছিল না। কখনো বিছানায়, আবার কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে পড়তে হয়েছে তাকে। অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে তাদের টিনের ছাপড়া ঘরে পৌঁছাতে হয়। সাদিয়ার বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক এবং মা আরফা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন।

সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের বিশেষ তদারকি। গত বছরের জুলাই মাসে সাদিয়ার মা আরফা বেগম মেয়ের পড়াশোনার আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসক সাদিয়াকে ডেকে তার পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং তাকে পড়াশোনার কৌশল শিখিয়ে দেন। তিনি সাদিয়াকে সাত দিনের পড়া ঠিক করে দিতেন এবং প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পড়া দেওয়ার নিয়ম করে দেন।

জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিয়মিত পড়াশোনার রুটিন তদারকি করেছেন। সাদিয়া প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে পড়া দিত, ভুল সংশোধন করত এবং নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফিরত। এভাবে পুরো এক বছর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। জেলা প্রশাসক নিজেও সাদিয়ার বিদ্যালয় কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তার খোঁজখবর নিতেন।

১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাদিয়ার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির খবরে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর সাদিয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাকে অভিনন্দন জানান ও মিষ্টিমুখ করান। সাদিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী জানান, বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন অংশ নিয়ে ২২ জন পাস করেছে, যার মধ্যে একমাত্র সাদিয়া জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সাদিয়ার মা আরফা বেগম জানান, ডিসি স্যার শুধু অর্থ দিয়ে নয়, নিয়মিত পড়া নিয়ে ও সাহস দিয়ে মেয়েকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। বাবা মো. সেলিম মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান। সাদিয়া বড় হয়ে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখে। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান জানান, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাদিয়ার মধ্যে শেখার আগ্রহ ছিল, তাই সে রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো সম্পন্ন করেছে। এ ধরনের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসকের পরামর্শে জিপিএ-৫ পেল অভাবী সাদিয়া

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকার সাদিয়া আফরিন এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা সাদিয়ার পড়ার জন্য কোনো টেবিলও ছিল না। কখনো বিছানায়, আবার কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে পড়তে হয়েছে তাকে। অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে তাদের টিনের ছাপড়া ঘরে পৌঁছাতে হয়। সাদিয়ার বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক এবং মা আরফা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন।

সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের বিশেষ তদারকি। গত বছরের জুলাই মাসে সাদিয়ার মা আরফা বেগম মেয়ের পড়াশোনার আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসক সাদিয়াকে ডেকে তার পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং তাকে পড়াশোনার কৌশল শিখিয়ে দেন। তিনি সাদিয়াকে সাত দিনের পড়া ঠিক করে দিতেন এবং প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পড়া দেওয়ার নিয়ম করে দেন।

জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিয়মিত পড়াশোনার রুটিন তদারকি করেছেন। সাদিয়া প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে পড়া দিত, ভুল সংশোধন করত এবং নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফিরত। এভাবে পুরো এক বছর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। জেলা প্রশাসক নিজেও সাদিয়ার বিদ্যালয় কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তার খোঁজখবর নিতেন।

১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাদিয়ার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির খবরে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর সাদিয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাকে অভিনন্দন জানান ও মিষ্টিমুখ করান। সাদিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী জানান, বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন অংশ নিয়ে ২২ জন পাস করেছে, যার মধ্যে একমাত্র সাদিয়া জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সাদিয়ার মা আরফা বেগম জানান, ডিসি স্যার শুধু অর্থ দিয়ে নয়, নিয়মিত পড়া নিয়ে ও সাহস দিয়ে মেয়েকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। বাবা মো. সেলিম মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান। সাদিয়া বড় হয়ে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখে। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান জানান, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাদিয়ার মধ্যে শেখার আগ্রহ ছিল, তাই সে রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো সম্পন্ন করেছে। এ ধরনের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor