দুই বছরেও শুরু হয়নি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ নির্মাণকাজ
- আপডেট সময় : ০৮:২২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) প্রস্তাবিত ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও দুই বছরেও এর কাজ শুরু হয়নি। প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৮তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই চত্বরের নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ রাখা হয়। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কার্যক্রম কেবল নামফলক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
প্রকল্পটির বিলম্বের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রকল্পটির ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অর্থসংকটের কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া গেলে আগের ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’-এর ভিত্তি ব্যবহার করেই ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ নির্মাণের বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি নিজে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ভাঙা টাইলস মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, মূল অবকাঠামোতে এখনো হাত দেওয়া না হলেও ইতোমধ্যে কয়েকটি নকশা আহ্বান করা হয়েছে এবং স্থাপত্য নকশাও পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ইয়াসির নাজিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। শুধু নাম পরিবর্তন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তিনি শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও মর্যাদাপূর্ণ স্কয়ার নির্মাণের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।





























