পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনল সরকার
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কাঁচামাল আমদানির শর্তাবলি সহজ করার লক্ষ্যে 'আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯' এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে সরকার। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই হালনাগাদ আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে ২০২১-২৪ সালের পূর্ববর্তী আমদানি নীতি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন এই সংশোধনীতে নিট কাপড় আমদানির ওপর আগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এর আগে আমদানি নীতি আদেশের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ১২ উপ-অনুচ্ছেদে নিট ফেব্রিক আমদানিযোগ্য নয় বলে উল্লেখ ছিল। এই বিধিনিষেধটি রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে জানিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
আমদানি নীতিতে আরও কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে। এখন থেকে কৃত্রিম তন্তুর সীমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন আইটেম এবং ফাংশনাল পোশাকের কাপড় আকৃতি ও সাইজ নির্বিশেষে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ-এর সুপারিশ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিনামূল্যে (এফওসি) আমদানির তালিকায় কটন ও ম্যান-মেড ফাইবারের সাথে 'ও অন্যান্য উপকরণ' যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আদেশে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্যের কাঁচামালের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) বা ইউপি (ইউটিলাইজেশন পারমিশন) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া হোসিয়ারি ও নিটেড পোশাকের সুতা ও কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পূর্বশর্তটিও বাতিল করা হয়েছে।
সরকার মূলত বাণিজ্য সহজীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে। গত ২৫ আগস্ট ঋণপত্র বা এলসি খোলার কড়াকড়ি শিথিল করার মাধ্যমে যে মুক্ত বাণিজ্য নীতির সূচনা হয়েছিল, বর্তমান আদেশে সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পূর্বের নীতিতে এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের জন্য যে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ও শর্ত ছিল, নতুন আদেশে তা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত পদ্ধতির সাথে সাযুজ্য আনা হয়েছে।
এরমধ্যে মূল আদেশে গ্রে-কাপড় ছাড়া অন্য কাপড় কেবল ১৮.২৯ মিটার বা তার বেশি থানে আমদানির সুযোগ ছিল। কাটা বা টুকরো কাপড় আনা যেত না। এখন কৃত্রিম তন্তুর সীমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন আইটেম ও ফাংশনাল পোশাকের কাপড় আকৃতি ও সাইজ নির্বিশেষে আনা যাবে।





























