সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন জমার নিয়ম ও হিসাব পদ্ধতি
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আবশ্যক। নিয়ম অনুযায়ী, দশম গ্রেড বা তার চেয়ে উচ্চতর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান চালু করেছে। এবারের রিটার্নে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়ের হিসাব প্রদান করতে হবে। উল্লেখ্য, গত জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর করা হলো, সেই হিসাব এবারের রিটার্নে দেখাতে হবে না।
একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের হিসাবের একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। শরিফুল ইসলাম নামের একজন কর্মকর্তা সরকারি চাকরি করেন। তাঁর মাসিক মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয়ের মধ্যে রয়েছে মূল বেতন (৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা), দুটি উৎসব বোনাস (৭১ হাজার টাকা) এবং ইনসেনটিভ বোনাস (১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা)। সব মিলিয়ে শরিফুল ইসলামের আয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া তিনি বাড়িভাড়া বাবদ মাসে ১৪ হাজার ২০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা বছরে ১৮ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ৭ হাজার ১০০ টাকা পান। তবে চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা 'চাকরি (ব্যাংক, বিমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫'-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এগুলোর ওপর তাঁকে আয়কর দিতে হবে না।
কর হিসাবের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর নেই। শরিফুল ইসলামের বাকি ২ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে মোট ২০ হাজার ৩৫০ টাকা কর নির্ধারিত হয়। এটিই তাঁর ওপর আরোপিত আয়কর।
শরিফুল ইসলাম বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়ার যোগ্য। তিনি ভবিষ্য তহবিলে প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করে বছরে ৪৮ হাজার টাকা, কল্যাণ তহবিলে বছরে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং গোষ্ঠী বিমা তহবিলে বছরে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ৫১ হাজার টাকা। হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে দেখা যায় যে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁর ভবিষ্য তহবিলে অর্জিত সুদের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।
নিয়ম অনুযায়ী, কর রেয়াত পাওয়ার পরিমাণ হবে মোট আয়ের দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন হবে, তাই রেয়াতের পরিমাণ। শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রে মোট আয়ের (৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা) দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হয় ১৮ হাজার ১০৫ টাকা এবং মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের (৫১ হাজার টাকার) ১০ শতাংশ হয় ৫ হাজার ১০০ টাকা। এই তিনটির মধ্যে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ১০০ টাকা হওয়ায় এটিই তাঁর প্রাপ্য কর রেয়াত। ফলে ২০ হাজার ৩৫০ টাকা কর থেকে ৫ হাজার ১০০ টাকা রেয়াত বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট প্রদেয় কর দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২৫০ টাকা।
কল্যাণ তহবিলে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে পুরো বছরে দিয়েছেন ১ হাজার ৮০০ টাকা।



























