রাজধানীর বাজারে আটা-ময়দা ও মুরগি-ডিমের দাম চড়া
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এর পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দামও চড়া রয়েছে। তবে সবজির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকায় আটা ও ময়দার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের হিসাবে এই বৃদ্ধির হার আরও বেশি। খুচরা পর্যায়ে গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫–৭০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ৫৫–৬০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত ময়দার দুই কেজির প্যাকেট ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৮০–৮৫ টাকা, যা আগে ছিল ৭০–৭৫ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর জানান, পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হয়েছে। তিনি জানান, আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনলেও গত সপ্তাহে তা ২ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। আটা-ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার ব্যবসায়ীরা রুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকের পর বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয় এবং রুটি ও বিস্কুটের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজারে ফার্মের মুরগি ও ডিমের দামও চড়া। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রঙের এক ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সাদা ডিমের দাম ১০ টাকা কম। মাস দেড়েক আগেও এই দামেই ডিম বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় মাস আগের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩৪০–৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি মুরগি ৩০০–৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতাদের মতে, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমের কারণে অনেক খামারে উৎপাদন কমেছে, ফলে সরবরাহের ঘাটতিতে দাম কমছে না।
মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০–৪২০ টাকা ও কাতলা ৪২০–৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের পাঙাশ ২৫০–৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪০০–৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০–১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।



























