গাজীপুরে বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা এখন অটোরিকশা ও সবজি বিক্রেতা
- আপডেট সময় : ০৪:২২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবো এলাকায় অবস্থিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ফটক এখন বন্ধ। একসময় ভোরবেলা শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকা এই শিল্পপার্কের উৎপাদন লাইনে এখন আর কর্মচাঞ্চল্য নেই। বড় বড় ভবন ও যন্ত্রপাতি অলস পড়ে আছে, আর হাতেগোনা কিছু প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাকর্মী স্থাপনাগুলো পাহারা দিচ্ছেন। এই শিল্পপার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রভাব শুধু কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিকের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এই পার্কে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় ছাঁটাইয়ের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যদিও কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। জাপানের রিভাইভাল এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইকোমিলির অর্থায়নে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
কারখানা বন্ধ হওয়ার পর নতুন কোনো স্থায়ী চাকরি না পেয়ে অনেক শ্রমিকই এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। মো. সোলাইমান নামের একজন সাবেক শ্রমিক জানান, আগে বেক্সিমকোতে ভালো বেতন পেতেন, কিন্তু এখন চক্রবর্তী বাজারে চা বিক্রি করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই বাজারে সবজি বিক্রি করছেন ওসমান আলী, যিনি কারখানা বন্ধ হওয়ার পর নতুন কোনো কাজ না পেয়ে এই পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছেন। আবার খাইরুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক জানান, কারখানা বন্ধ হওয়ায় এলাকায় মানুষের আনাগোনা কমেছে, তাই এখন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
শ্রমিকদের এই দুরবস্থার প্রতিবাদে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ২০২৫ সালের মার্চে ১৪টি কারখানার ৩৩ হাজার ২৩৪ শ্রমিক ও কর্মচারীর বকেয়া বাবদ ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। তবে পাওনা পরিশোধ হলেও নতুন কর্মসংস্থানের অভাব শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তা দূর করতে পারেনি। বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই শিল্পপার্কের সংকটের পেছনে রয়েছে বিপুল ঋণ ও নানা আইনি জটিলতা। বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, কারখানাগুলো খোলার বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তারা সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।




























