বীমা খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা: সম্পদ বিক্রির হুঁশিয়ারি অর্থমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের বীমা খাতে ব্যাংকিং খাতের মতোই বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-এর কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৭ শতাংশ বীমা দাবিই অনিষ্পন্ন রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি দাবির মধ্যে ৫৭টিই গ্রাহক পাননি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরাতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা দাবি পরিশোধ করছে তারা ভালো কাজ করছে, তবে যারা করছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করে জমি ও অন্যান্য সম্পদ কিনেছে। এসব কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট থাকলে সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের দাবি মেটাতে হবে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান নিজেও একটি দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা মূলত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়, এটি সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিরই মূল দায়িত্ব।
দুর্নীতি রোধে প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং অনলাইন লেনদেনের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে দুটি সার্ভার ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি সার্ভার প্রকৃত তথ্যের জন্য এবং অন্যটি ভিন্ন লেনদেনের জন্য ব্যবহারের ঘটনা পাওয়া গেছে। এখন থেকে কোনো কোম্পানিতে দুই সার্ভার রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের পর পরিদর্শন শুরু হবে এবং কোনো কোম্পানিতে দুই সার্ভার পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রেষণে লোকবল কমিয়ে আইডিআরএ-তে নিজস্ব ও পেশাদার জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বীমা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমা আইনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং ব্যাংকিং খাতের মতো বীমা খাতেও প্রয়োজনীয় ‘রেজুলেশন’ কাঠামো ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এসব পরিবর্তন আগামী দিনে সংসদে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বীমা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে বীমা কোম্পানিগুলোকে আইন মেনে, নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় কাজ করতে হবে।




























