ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাটির ঘরে তৈলার দ্বীপ ডাকঘর, বাক্স খুললেও মেলে না চিঠি শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদ ও নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ রাজধানীর মহাখালীতে এসি বাসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৬ মিনিট হরমুজ প্রণালিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রামেবি উপাচার্যকে লাঞ্ছনাকারীরা রাষ্ট্র ও জনগণের শত্রু: ভূমিমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে একরাতে আটক আরও ২৫২ জন পাটগ্রামে ১৭ লাখ টাকার দেনমোহর জালিয়াতি করে কমানোর অভিযোগ কাজির বিরুদ্ধে মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতায় ইসলামের জীবনদর্শন সম্পদের অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা ও আমাদের করণীয় নর্থ সাউথ গ্রুপের সবুজ আবাসন: মিলনমেলা ও উৎসব আজ

রিকন্ডিশনড ও ইলেকট্রিক গাড়ির শুল্কে বৈষম্যের অভিযোগ বারভিদার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও রিকন্ডিশনড গাড়ির শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিদা) নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল হক। ২০২৬ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর (2026) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের অটোমোবাইল খাতের বর্তমান সংকট, সরকারের ইভি নীতি এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চতুর্থবারের মতো বারভিদার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আবদুল হক দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের শুল্ক কাঠামো ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি আমদানি সহজীকরণের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন।

সাক্ষাৎকারে আবদুল হক জানান, দেশে রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি ও বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বছরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার গাড়ি আমদানি হতো, সেখানে গত বছর আমদানি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৪০০টির মতো, যা আমদানির তুলনায় বিক্রির বড় পতনের চিত্র তুলে ধরে। সুনির্দিষ্টভাবে এ বাজারের সঠিক আকার বলা কঠিন হলেও, এ খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায় এবং এর মোট বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

গাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে শেপ চেঞ্জের ওপর ভিত্তি করে শতাধিক মডেলের গাড়ি রয়েছে। রিকন্ডিশনড এক্সিও গাড়ির দাম যেখানে ২৫ থেকে ৩২ লাখ টাকা, সেখানে ২১-২২ লাখ টাকার গাড়িও বাজারে আছে। আবার উচ্চমানের বিলাসবহুল গাড়ির দাম দেড় থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে শুধু জাপান থেকেই রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে। জাপানি গাড়ির মান, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দিক থেকে কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার কারণেই বিশ্বের শতাধিক দেশ সেখান থেকে গাড়ি আমদানি করে।

শুল্ক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বারভিদা সভাপতি বলেন, নতুন ও রিকন্ডিশনড গাড়ির শুল্ক নির্ধারণে সরকার এ খাতের বিশাল অর্থনৈতিক অবদানকে হয়তো বিবেচনায় নেয়নি। বর্তমানে ইভিতে সর্বনিম্ন কর ৬৪.২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২২৩ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য রয়েছে। অথচ রিকন্ডিশনড গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন করই প্রায় ৯৬ শতাংশ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্রিন এনার্জি বা ইভিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যৌক্তিকতা তারা স্বীকার করেন, তবে ইভিকে সুবিধা দিতে গিয়ে রিকন্ডিশনড গাড়ির সঙ্গে বৈষম্য করা হলে এ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইভি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতির সমালোচনা করে আবদুল হক বলেন, তারা প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনের বিরোধিতা করছেন না, তবে ইভি আমদানিতে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া এবং রিকন্ডিশনড ইভি আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বৈষম্য তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নির্দিষ্ট মান ও ব্যাটারি সার্টিফিকেশনের শর্ত মেনে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও মান, নিরাপত্তা ও ব্যাটারির সার্টিফিকেশনের শর্ত দিয়ে রিকন্ডিশনড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে, ভোক্তারা লাভবান হবেন এবং দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হবে।

আব্দুল হক : কয়েক বছর আগেও বছরে প্রায় ২৫-২৬ হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হতো। বর্তমানে তা কমে গেছে। গত বছর প্রায় ২০ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। এর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৯,৪০০টির মতো। অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বিক্রি অনেক কমেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

রিকন্ডিশনড ও ইলেকট্রিক গাড়ির শুল্কে বৈষম্যের অভিযোগ বারভিদার

আপডেট সময় : ১০:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও রিকন্ডিশনড গাড়ির শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিদা) নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল হক। ২০২৬ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর (2026) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের অটোমোবাইল খাতের বর্তমান সংকট, সরকারের ইভি নীতি এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চতুর্থবারের মতো বারভিদার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আবদুল হক দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের শুল্ক কাঠামো ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি আমদানি সহজীকরণের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন।

সাক্ষাৎকারে আবদুল হক জানান, দেশে রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি ও বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বছরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার গাড়ি আমদানি হতো, সেখানে গত বছর আমদানি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৪০০টির মতো, যা আমদানির তুলনায় বিক্রির বড় পতনের চিত্র তুলে ধরে। সুনির্দিষ্টভাবে এ বাজারের সঠিক আকার বলা কঠিন হলেও, এ খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায় এবং এর মোট বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

গাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে শেপ চেঞ্জের ওপর ভিত্তি করে শতাধিক মডেলের গাড়ি রয়েছে। রিকন্ডিশনড এক্সিও গাড়ির দাম যেখানে ২৫ থেকে ৩২ লাখ টাকা, সেখানে ২১-২২ লাখ টাকার গাড়িও বাজারে আছে। আবার উচ্চমানের বিলাসবহুল গাড়ির দাম দেড় থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে শুধু জাপান থেকেই রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে। জাপানি গাড়ির মান, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দিক থেকে কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার কারণেই বিশ্বের শতাধিক দেশ সেখান থেকে গাড়ি আমদানি করে।

শুল্ক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বারভিদা সভাপতি বলেন, নতুন ও রিকন্ডিশনড গাড়ির শুল্ক নির্ধারণে সরকার এ খাতের বিশাল অর্থনৈতিক অবদানকে হয়তো বিবেচনায় নেয়নি। বর্তমানে ইভিতে সর্বনিম্ন কর ৬৪.২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২২৩ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য রয়েছে। অথচ রিকন্ডিশনড গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন করই প্রায় ৯৬ শতাংশ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্রিন এনার্জি বা ইভিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যৌক্তিকতা তারা স্বীকার করেন, তবে ইভিকে সুবিধা দিতে গিয়ে রিকন্ডিশনড গাড়ির সঙ্গে বৈষম্য করা হলে এ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইভি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতির সমালোচনা করে আবদুল হক বলেন, তারা প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনের বিরোধিতা করছেন না, তবে ইভি আমদানিতে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া এবং রিকন্ডিশনড ইভি আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বৈষম্য তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নির্দিষ্ট মান ও ব্যাটারি সার্টিফিকেশনের শর্ত মেনে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও মান, নিরাপত্তা ও ব্যাটারির সার্টিফিকেশনের শর্ত দিয়ে রিকন্ডিশনড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে, ভোক্তারা লাভবান হবেন এবং দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হবে।

আব্দুল হক : কয়েক বছর আগেও বছরে প্রায় ২৫-২৬ হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হতো। বর্তমানে তা কমে গেছে। গত বছর প্রায় ২০ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। এর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৯,৪০০টির মতো। অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বিক্রি অনেক কমেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh