ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাজারে সবজির স্বস্তি, তবে মাছ-মাংস ও ডিমের দামে অস্বস্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দাম ক্রেতাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও চড়া, প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা এবং এক ডজন ডিমের জন্য ক্রেতাদের ১৬৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে ডিমের ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ জানান, খামার থেকে প্রতি শ ডিম ৯০০ টাকায় ছাড়া হলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের কিনতে হচ্ছে ১১৬০ টাকায়, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

মাছের বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই ও কাতল ৩৬০-৪০০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মগবাজার চারুলতা মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী চন্দন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে জ্যান্ত মাছের জন্য অক্সিজেনের মোটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে মাছ মরে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মাংসের ক্ষেত্রে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ থেকে ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ২৯০-৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। বর্তমানে খোলা চিনি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই চিনির দাম বেড়েছে।

সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। লাউ ৬০-৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ১০০-১৪০ টাকা, শসা ৫০-৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের মধ্যে লালশাক ১৫-২০ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা এবং পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি আড়তের দাম, পরিবহন খরচ এবং অবিক্রিত পণ্যের নষ্ট হওয়ার হিসাবের ওপর খুচরা বাজারের দাম নির্ভর করে।

বিক্রেতারা বলছেন, মাসখানেক আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা এবং ডিমের দাম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। আগস্টের শুরুতে পণ্য দু’টির দাম বেড়ে গেলেও আর কমেনি। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার, গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তাতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। বুধবার দাম বাড়ানো হলেও দোকানে আগের সরবরাহকৃত বোতলগুলো পুরাতন দামে বিক্রি হয়েছে। নতুন বোতলে বাড়তি দাম কার্যকর করা হয়েছে।

বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া, পাঙাশ প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতল (আকারভেদে) ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বাইম ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৯০০ টাকা, বড় চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজারে সবজির স্বস্তি, তবে মাছ-মাংস ও ডিমের দামে অস্বস্তি

আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দাম ক্রেতাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও চড়া, প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা এবং এক ডজন ডিমের জন্য ক্রেতাদের ১৬৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে ডিমের ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ জানান, খামার থেকে প্রতি শ ডিম ৯০০ টাকায় ছাড়া হলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের কিনতে হচ্ছে ১১৬০ টাকায়, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

মাছের বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই ও কাতল ৩৬০-৪০০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মগবাজার চারুলতা মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী চন্দন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে জ্যান্ত মাছের জন্য অক্সিজেনের মোটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে মাছ মরে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মাংসের ক্ষেত্রে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ থেকে ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ২৯০-৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। বর্তমানে খোলা চিনি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই চিনির দাম বেড়েছে।

সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। লাউ ৬০-৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ১০০-১৪০ টাকা, শসা ৫০-৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের মধ্যে লালশাক ১৫-২০ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা এবং পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি আড়তের দাম, পরিবহন খরচ এবং অবিক্রিত পণ্যের নষ্ট হওয়ার হিসাবের ওপর খুচরা বাজারের দাম নির্ভর করে।

বিক্রেতারা বলছেন, মাসখানেক আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা এবং ডিমের দাম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। আগস্টের শুরুতে পণ্য দু’টির দাম বেড়ে গেলেও আর কমেনি। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার, গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তাতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। বুধবার দাম বাড়ানো হলেও দোকানে আগের সরবরাহকৃত বোতলগুলো পুরাতন দামে বিক্রি হয়েছে। নতুন বোতলে বাড়তি দাম কার্যকর করা হয়েছে।

বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া, পাঙাশ প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতল (আকারভেদে) ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বাইম ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৯০০ টাকা, বড় চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin