সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ-মুরগি ও ডিমের চড়া দাম
- আপডেট সময় : ০৩:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০৬। রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। এর মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান, ভোজ্যতেলের পাশাপাশি আটা, ময়দা, চিনি, ডাল, গুঁড়া দুধ, সাবান ও ওয়াশিং পাউডারের মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ পড়েছে। বুধবার সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ভোজ্যতেলের কোনো সরবরাহ সংকট নেই, তবুও মূল্যস্ফীতির বিষয়ে সরকার নজর রাখছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে সব ধরনের সবজিতে এই স্বস্তি নেই, কিছু সবজি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম চড়া থাকায় ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২,২৫০ থেকে ২,৬০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে, যার ফলে সীমিত আয়ের মানুষ মাছ কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। মাছ ব্যবসায়ী কাদের মিয়ার মতে, নানা কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে এবং তা সহসা কমার সম্ভাবনা কম।
মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আজমিরা খাতুন জানান, সবজির দাম কিছুটা সহনীয় হলেও অন্যান্য পণ্যের চড়া দামে তাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট রোধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, কেবল দু-একটি পণ্যের দাম কমানো নয়, বরং সব নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এর আগে রাজধানীর বাজারে অনেক সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমতে দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



























