জ্বালানিসংকটের মধ্যেও আগস্টে রপ্তানি আয় ১৩ শতাংশ বেড়েছে
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের তীব্র প্রভাব থাকা সত্ত্বেও গত আগস্ট মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ৪৪৩ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯১ কোটি ডলার। তবে জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে রপ্তানি প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে, কারণ জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৩ কোটি ডলারের পণ্য।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সামগ্রিক রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৯১৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য—এই পাঁচটি খাত থেকে। এর মধ্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ছাড়া বাকি চারটি খাতের রপ্তানি আগস্ট মাসে বেড়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি গত মাসে ৩৬১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই খাতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাসজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটে স্পিনিং ও ডায়িং কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এরপরও পোশাক রপ্তানিতে ১৫ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বিস্ময়কর, যা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
অন্যান্য খাতের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ২২ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল রপ্তানি ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি দুই মাস ধরে নিম্নমুখী। আগস্ট মাসে এই খাতে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ কম। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জাহাজভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং গন্তব্যে পণ্য পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। এছাড়া কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নিয়োজিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল অগ্নিদুর্ঘটনায় বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে দেশের শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস–সংকটে ভুগছে, যার ফলে আগস্টের অধিকাংশ দিন বস্ত্রকলগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যায় ছিল এবং অনেক রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় সময়মতো কাঁচামাল সরবরাহ করা যায়নি।
এই পাঁচ খাত থেকেই দেশের ৮৯-৯০ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে।
চলতি অর্থবছর এখন পর্যন্ত (জুলাই-আগস্ট) ৭৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।




























