ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু

ভুয়া ঠিকানায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি: ক্রাউন অটোমোবাইলের কারসাজি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছে ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রমতে, আমদানি নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ৩/১ দীননাথ সেন রোড। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে কোনো গাড়ির প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই; বরং ২০১৮ সাল থেকে সেখানে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনটি নির্মাণ করছে আল-আকসা বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী ও হিসাবরক্ষকের ভাষ্যমতে, সেখানে আগে বাতি তৈরির কারখানা থাকলেও বর্তমানে কোনো গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নেই। তবুও এখনো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে ডাকযোগে সেখানে চিঠি আসে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের গত বৃহস্পতিবারের এক অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়, যার প্রতিটির মূল্য কোটি টাকার বেশি। এনবিআর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শতভাগ কায়িক পরীক্ষা এবং বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় এই শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবুও ২০১৫ সাল থেকে তারা নিয়মিত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে আসছে। এ সময়ে তারা ২৭টি চালান এনেছে, যার ঘোষিত আমদানিমূল্য ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৫ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম চালান আমদানি করে। এরপর বিভিন্ন বছরে তারা এক থেকে ছয়টি পর্যন্ত চালান এনেছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে পাঁচটি এবং ২০২৫ সালে ছয়টি চালান রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেছে যে, প্রতিটি চালানেই আমদানিকারকের ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাস্তব শুল্কায়নমূল্য বেশি ছিল, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেড় থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি। এ পর্যন্ত আসা বেশিরভাগ চালানই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসেছে। মোংলা বন্দর দিয়ে আনা চালানটিই প্রথমবারের মতো খালাসের আগেই আটক করা হয়েছে।

জাপানের আশিকাগা–শি শহরের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে এই গাড়িগুলো পাঠানো হয়েছিল। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর ক্রাউন অটোমোবাইলের একটি ছাড়া বাকি সব চালানের রপ্তানিকারক ছিল এই মাহি কার পোর্ট। এদিকে, মোংলা বন্দরে চারটি গাড়ি জব্দের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামে একটি বিএমডব্লিউ এবং কক্সবাজারে আরও তিনটি গাড়ি জব্দ করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এসব গাড়ির বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির গত ১২ বছরের সব চালানের বিষয়ে তদন্ত শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ভুয়া ঠিকানায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি: ক্রাউন অটোমোবাইলের কারসাজি

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছে ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রমতে, আমদানি নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ৩/১ দীননাথ সেন রোড। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে কোনো গাড়ির প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই; বরং ২০১৮ সাল থেকে সেখানে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনটি নির্মাণ করছে আল-আকসা বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী ও হিসাবরক্ষকের ভাষ্যমতে, সেখানে আগে বাতি তৈরির কারখানা থাকলেও বর্তমানে কোনো গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নেই। তবুও এখনো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে ডাকযোগে সেখানে চিঠি আসে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের গত বৃহস্পতিবারের এক অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়, যার প্রতিটির মূল্য কোটি টাকার বেশি। এনবিআর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শতভাগ কায়িক পরীক্ষা এবং বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় এই শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবুও ২০১৫ সাল থেকে তারা নিয়মিত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে আসছে। এ সময়ে তারা ২৭টি চালান এনেছে, যার ঘোষিত আমদানিমূল্য ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৫ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম চালান আমদানি করে। এরপর বিভিন্ন বছরে তারা এক থেকে ছয়টি পর্যন্ত চালান এনেছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে পাঁচটি এবং ২০২৫ সালে ছয়টি চালান রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেছে যে, প্রতিটি চালানেই আমদানিকারকের ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাস্তব শুল্কায়নমূল্য বেশি ছিল, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেড় থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি। এ পর্যন্ত আসা বেশিরভাগ চালানই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসেছে। মোংলা বন্দর দিয়ে আনা চালানটিই প্রথমবারের মতো খালাসের আগেই আটক করা হয়েছে।

জাপানের আশিকাগা–শি শহরের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে এই গাড়িগুলো পাঠানো হয়েছিল। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর ক্রাউন অটোমোবাইলের একটি ছাড়া বাকি সব চালানের রপ্তানিকারক ছিল এই মাহি কার পোর্ট। এদিকে, মোংলা বন্দরে চারটি গাড়ি জব্দের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামে একটি বিএমডব্লিউ এবং কক্সবাজারে আরও তিনটি গাড়ি জব্দ করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এসব গাড়ির বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির গত ১২ বছরের সব চালানের বিষয়ে তদন্ত শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo