পুঁজিবাজারে বিও হিসাব খোলায় আসছে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতি
- আপডেট সময় : ০৬:১১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলার প্রক্রিয়ায় ই-কেওয়াইসি (ইলেকট্রনিক নো ইয়োর কাস্টমার) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে, যা পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোতালেব জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনাপত্তি পাওয়া গেছে।
ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের সার্ভারের সঙ্গে সিডিবিএলের সফটওয়্যারের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযুক্ত করতে হবে। এই প্রস্তুতি ও সফটওয়্যার যাচাইয়ের অংশ হিসেবে গত ১৯ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের একটি দল সিডিবিএল কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। ই-কেওয়াইসি চালুর বিষয়ে সিডিবিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। তাই এ জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি ফি নেওয়া হবে না। কেবল নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ব্যবহারের ফি এবং সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা বাবদ নির্ধারিত কিছু ফি প্রযোজ্য হবে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এই পদ্ধতি চালু হতে পারে। শুরুতে নতুন বিও অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হলেও পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান বিও হিসাবধারীদের তথ্যও যাচাই করা হবে।
এই ই-কেওয়াইসি সিস্টেমটি বিএসইসিতে নিবন্ধিত ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং কাস্টোডিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী এবং নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জমা দিতে হয়। যেকোনো অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শেয়ার কেনাবেচায় অংশ নিতে পারেন।
এদিকে, বিও হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ বা নবায়ন ফি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়—৫০ টাকা সিডিবিএল, ৫০ টাকা ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টস (ব্রোকারেজ হাউজ) এবং ৫০ টাকা বিএসইসি পায়। তবে আগের কোনো বকেয়া ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়মে ৪৫০ টাকাই প্রযোজ্য হবে। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়, অন্যথায় হিসাব বন্ধ হয়ে যায়।





























