ঢাকা ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন: এক অনন্য বাংলাদেশ জয় বাংলা স্লোগান: শোকজ পেলেন সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতা মিন্টু শেখ নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৩৮৯, নিখোঁজ ৯ শতাধিক মানুষ ফেনীতে খুঁটিতে বেঁধে গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে নির্যাতন, আটক ৩

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেররা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবার ব্যাংক হিসাবে বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ, পরিবারের নামে অঢেল সম্পদ, আর জীবনে আর্থিক সংকটের কোনো ভয় নেই—এমন অবস্থাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অতিধনী বাবা-মায়ের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ সন্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হলেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারের বাস্তবতায় এই শঙ্কা এখন প্রবল হয়ে উঠেছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেন-জি প্রজন্মের লাখো তরুণ এখন বেকারত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যে ধরনের কাজ বরাদ্দ ছিল, তার বড় একটি অংশ এখন এআইয়ের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কেবল মধ্যবিত্ত বা নিম্ন আয়ের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ধনকুবেরদের অন্দরমহলেও পৌঁছেছে।

ইউএস ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেন্ট প্রাইভেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টম থিগস বলেন, শতকোটিপতিরা সন্তানকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেই পারেন, কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—সন্তানের সফলতার জন্য অর্থের বাইরে আর কী প্রয়োজন। মায়ামিভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালাইন্ড বাই নিউএজ ওয়েলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্যাট্রিক ডোয়ার, যিনি সাধারণত ১০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের পরামর্শ দেন, তিনি জানান, তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসা ব্যক্তিদের সন্তানদের বয়স সাধারণত ২২ থেকে ৩৫ বছর। ডোয়ারের মতে, প্রযুক্তি, আইন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাগুলো একসময় নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হলেও, বর্তমানে সেখানেও চাকরি পাওয়া ও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপকদের মতে, ধনকুবেরদের এই উদ্বেগ কেবল অর্থ নিয়ে নয়। টম থিগস জানান, তারা মূলত সন্তানের জীবনের উদ্দেশ্যবোধ, পরিচয় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে চিন্তিত। বিপুল সম্পদের কারণে সন্তানের কর্মস্পৃহা কমে যাওয়ার ভয়ও তাদের তাড়া করে। সিডার পয়েন্ট ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ট্রেন্ট ভন আহসেন বলেন, অতিধনী পরিবারগুলোর মূল দুশ্চিন্তা এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে সে চিরকাল বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।

চাকরির বাজারের এই অস্থিরতার কারণে জেন-জি প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই প্রচলিত করপোরেট ক্যারিয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ডেলয়েটের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জির মাত্র ৬ শতাংশের লক্ষ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে যাওয়া। এর বদলে তারা কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, ব্যক্তিগত পরিতৃপ্তি এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ কনটেন্ট নির্মাতা হচ্ছেন, কেউ উৎপাদনশিল্পে বা কারিগরি পেশায় ঝুঁকছেন। এমনকি ডিগ্রিধারী তরুণদের কাউকে কাউকে ধনী পরিবারের আয়া বা গৃহশিক্ষকের মতো কাজ করতেও দেখা যাচ্ছে, কারণ এসব পেশায় করপোরেট চাকরির মতো অনিশ্চয়তা নেই এবং বেতনও আকর্ষণীয়।

এই নতুন বাস্তবতায় শতকোটিপতিদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও বদলে যাচ্ছে। প্যাট্রিক ডোয়ারের ভাষায়, পরিবারগুলোকে বুঝতে হচ্ছে যে সন্তানের বাস্তবতা তাদের নিজেদের সময়ের মতো নয়। তাই শুধু অর্থ দিয়ে নিশ্চিন্ত না রেখে, নতুন দক্ষতা শেখানো ও সন্তানকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় এখন এককালীন বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের চেয়ে শিক্ষা, পরামর্শ ও ধাপে ধাপে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সন্তান যেন শুধু নিরাপদই না থাকে, বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে তৈরি করতে পারে এবং নিজেকে মূল্যবান ভাবতে শেখে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেররা

আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাবার ব্যাংক হিসাবে বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ, পরিবারের নামে অঢেল সম্পদ, আর জীবনে আর্থিক সংকটের কোনো ভয় নেই—এমন অবস্থাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অতিধনী বাবা-মায়ের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ সন্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হলেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারের বাস্তবতায় এই শঙ্কা এখন প্রবল হয়ে উঠেছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেন-জি প্রজন্মের লাখো তরুণ এখন বেকারত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যে ধরনের কাজ বরাদ্দ ছিল, তার বড় একটি অংশ এখন এআইয়ের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কেবল মধ্যবিত্ত বা নিম্ন আয়ের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ধনকুবেরদের অন্দরমহলেও পৌঁছেছে।

ইউএস ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেন্ট প্রাইভেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টম থিগস বলেন, শতকোটিপতিরা সন্তানকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেই পারেন, কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—সন্তানের সফলতার জন্য অর্থের বাইরে আর কী প্রয়োজন। মায়ামিভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালাইন্ড বাই নিউএজ ওয়েলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্যাট্রিক ডোয়ার, যিনি সাধারণত ১০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের পরামর্শ দেন, তিনি জানান, তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসা ব্যক্তিদের সন্তানদের বয়স সাধারণত ২২ থেকে ৩৫ বছর। ডোয়ারের মতে, প্রযুক্তি, আইন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাগুলো একসময় নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হলেও, বর্তমানে সেখানেও চাকরি পাওয়া ও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপকদের মতে, ধনকুবেরদের এই উদ্বেগ কেবল অর্থ নিয়ে নয়। টম থিগস জানান, তারা মূলত সন্তানের জীবনের উদ্দেশ্যবোধ, পরিচয় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে চিন্তিত। বিপুল সম্পদের কারণে সন্তানের কর্মস্পৃহা কমে যাওয়ার ভয়ও তাদের তাড়া করে। সিডার পয়েন্ট ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ট্রেন্ট ভন আহসেন বলেন, অতিধনী পরিবারগুলোর মূল দুশ্চিন্তা এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে সে চিরকাল বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।

চাকরির বাজারের এই অস্থিরতার কারণে জেন-জি প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই প্রচলিত করপোরেট ক্যারিয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ডেলয়েটের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জির মাত্র ৬ শতাংশের লক্ষ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে যাওয়া। এর বদলে তারা কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, ব্যক্তিগত পরিতৃপ্তি এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ কনটেন্ট নির্মাতা হচ্ছেন, কেউ উৎপাদনশিল্পে বা কারিগরি পেশায় ঝুঁকছেন। এমনকি ডিগ্রিধারী তরুণদের কাউকে কাউকে ধনী পরিবারের আয়া বা গৃহশিক্ষকের মতো কাজ করতেও দেখা যাচ্ছে, কারণ এসব পেশায় করপোরেট চাকরির মতো অনিশ্চয়তা নেই এবং বেতনও আকর্ষণীয়।

এই নতুন বাস্তবতায় শতকোটিপতিদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও বদলে যাচ্ছে। প্যাট্রিক ডোয়ারের ভাষায়, পরিবারগুলোকে বুঝতে হচ্ছে যে সন্তানের বাস্তবতা তাদের নিজেদের সময়ের মতো নয়। তাই শুধু অর্থ দিয়ে নিশ্চিন্ত না রেখে, নতুন দক্ষতা শেখানো ও সন্তানকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় এখন এককালীন বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের চেয়ে শিক্ষা, পরামর্শ ও ধাপে ধাপে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সন্তান যেন শুধু নিরাপদই না থাকে, বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে তৈরি করতে পারে এবং নিজেকে মূল্যবান ভাবতে শেখে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo