ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাছরাঙা টিভির দুঃখ প্রকাশে ক্ষুব্ধ পরীমণি, নিজেকেই দায়ী করলেন অপরাধী হিসেবে নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চাপে বাংলাদেশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে: আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ রাজধানীর শান্তিনগরে পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান শক্ত করল বার্সেলোনা

অগ্রিম ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না সিরাজগঞ্জ বিসিক, ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের ভেতরে গ্যাস সরবরাহের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শুরু করেনি পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)। অথচ ২০২২ সালের জুনেই এ কাজের জন্য অগ্রিম প্রায় ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। চার বছর ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পের কারণে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। দেশে চলমান গ্যাস-সংকট তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিসিক ও শিল্পপার্ক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাস-সংযোগের অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয় পিজিসিএল। শিল্পপ্লটগুলোয় গ্যাস দিতে ২০২২ সালের ২০ জুন পিজিসিএলের অনুকূলে ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জমা দেয় বিসিক। তবে পিজিসিএল কেবল শিল্পপার্কের প্রধান ফটক পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে কাজ বন্ধ রেখেছে। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংঘটিত অনিয়মের বিষয়ে একটি মেমো ইস্যু করেছে।

গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে তাগিদপত্র পাঠায়। এরপর ২০ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিসিক শাখাও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগিদপত্র দেয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজা নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে এই শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের জুনে। তবে পরে সাত দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বিসিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রকল্পে ২৭৫ একর জমিতে এ, বি ও এস—এই তিন ক্যাটাগরিতে ৮২৯টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি প্লট বিদেশি এবং ২৭৯টি প্লট দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে। এ ক্যাটাগরির প্লট ২০ হাজার বর্গফুট, বি ক্যাটাগরির ১০ হাজার বর্গফুট এবং এস ক্যাটাগরির প্লট ৬ থেকে ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের। দুই ধাপে ২৭২টি প্লট দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্যাস-সংযোগের অনিশ্চয়তায় অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যমুনা পেপার অ্যান্ড বোর্ড ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ এই শিল্পপার্কে চারটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি জানান, প্লটগুলো যেমন এখনো অসম্পূর্ণ, তেমনই গ্যাসলাইনও স্থাপন করা হচ্ছে না। জিলানি অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাদের জানান, তিনি ছয়টি প্লট পেয়েছেন। সব প্লটেই মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বাধ্য হয়ে নিজ খরচে মাটি ভরাট করতে হয়েছে। বর্তমানে মেশিনপত্র স্থাপনের কাজ চললেও গ্যাস না পাওয়ায় কারখানা চালু করা যাচ্ছে না।

যমুনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ইকবাল হাসান বলেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে দুটি প্লট বরাদ্দের টাকা দিয়েছেন। এখন শুনছেন গ্যাস নেই। গ্যাসলাইন না থাকলে ব্যাংকও বিনিয়োগ করবে না। আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক উদ্যোক্তা বলেন, গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তিনি প্লট নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো গ্যাসলাইন স্থাপিত না হওয়ায় বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন।

গ্যাসলাইন স্থাপিত না হওয়ায় বিনিয়োগে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন উদ্যোক্তারা।২০২৪ সালের জুনে প্রকল্প শেষ দেখানো হলেও অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।দ্রুত গ্যাসলাইন না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক শিল্প উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকলে এখানে কেন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন? ব্যাংকও ঋণ দেবে না। দ্রুত গ্যাসলাইন স্থাপনসহ সব ধরনের সেবা নিশ্চিত না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা কেউ জমা দেবেন না বলে উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের প্রধান কর্মকর্তা হিরণ্ময় বর্দ্ধন বলেন, পিজিসিএল অভ্যন্তরীণ গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ শেষ না করায় উদ্যোক্তারা বিসিককে চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি একাধিকবার পিজিসিএলকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও তাগিদপত্র দিয়েছে। জ্বালানি ও গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি এখন পুরোপুরি পিজিসিএলের ওপর নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে সংযোগ দেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

অগ্রিম ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না সিরাজগঞ্জ বিসিক, ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা

আপডেট সময় : ১০:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের ভেতরে গ্যাস সরবরাহের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শুরু করেনি পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)। অথচ ২০২২ সালের জুনেই এ কাজের জন্য অগ্রিম প্রায় ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। চার বছর ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পের কারণে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। দেশে চলমান গ্যাস-সংকট তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিসিক ও শিল্পপার্ক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাস-সংযোগের অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয় পিজিসিএল। শিল্পপ্লটগুলোয় গ্যাস দিতে ২০২২ সালের ২০ জুন পিজিসিএলের অনুকূলে ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জমা দেয় বিসিক। তবে পিজিসিএল কেবল শিল্পপার্কের প্রধান ফটক পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে কাজ বন্ধ রেখেছে। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংঘটিত অনিয়মের বিষয়ে একটি মেমো ইস্যু করেছে।

গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে তাগিদপত্র পাঠায়। এরপর ২০ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিসিক শাখাও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগিদপত্র দেয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজা নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে এই শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের জুনে। তবে পরে সাত দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বিসিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রকল্পে ২৭৫ একর জমিতে এ, বি ও এস—এই তিন ক্যাটাগরিতে ৮২৯টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি প্লট বিদেশি এবং ২৭৯টি প্লট দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে। এ ক্যাটাগরির প্লট ২০ হাজার বর্গফুট, বি ক্যাটাগরির ১০ হাজার বর্গফুট এবং এস ক্যাটাগরির প্লট ৬ থেকে ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের। দুই ধাপে ২৭২টি প্লট দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্যাস-সংযোগের অনিশ্চয়তায় অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যমুনা পেপার অ্যান্ড বোর্ড ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ এই শিল্পপার্কে চারটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি জানান, প্লটগুলো যেমন এখনো অসম্পূর্ণ, তেমনই গ্যাসলাইনও স্থাপন করা হচ্ছে না। জিলানি অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাদের জানান, তিনি ছয়টি প্লট পেয়েছেন। সব প্লটেই মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বাধ্য হয়ে নিজ খরচে মাটি ভরাট করতে হয়েছে। বর্তমানে মেশিনপত্র স্থাপনের কাজ চললেও গ্যাস না পাওয়ায় কারখানা চালু করা যাচ্ছে না।

যমুনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ইকবাল হাসান বলেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে দুটি প্লট বরাদ্দের টাকা দিয়েছেন। এখন শুনছেন গ্যাস নেই। গ্যাসলাইন না থাকলে ব্যাংকও বিনিয়োগ করবে না। আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক উদ্যোক্তা বলেন, গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তিনি প্লট নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো গ্যাসলাইন স্থাপিত না হওয়ায় বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন।

গ্যাসলাইন স্থাপিত না হওয়ায় বিনিয়োগে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন উদ্যোক্তারা।২০২৪ সালের জুনে প্রকল্প শেষ দেখানো হলেও অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।দ্রুত গ্যাসলাইন না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক শিল্প উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকলে এখানে কেন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন? ব্যাংকও ঋণ দেবে না। দ্রুত গ্যাসলাইন স্থাপনসহ সব ধরনের সেবা নিশ্চিত না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা কেউ জমা দেবেন না বলে উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের প্রধান কর্মকর্তা হিরণ্ময় বর্দ্ধন বলেন, পিজিসিএল অভ্যন্তরীণ গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ শেষ না করায় উদ্যোক্তারা বিসিককে চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি একাধিকবার পিজিসিএলকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও তাগিদপত্র দিয়েছে। জ্বালানি ও গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি এখন পুরোপুরি পিজিসিএলের ওপর নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে সংযোগ দেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo