খেলাপি ঋণ আদায়ে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে এবং মামলাজট কমাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) আওতায় এখন থেকে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান একাধিক প্যানেল গঠন করে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা সার্কুলার আকারে জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ের বিপরীতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কমিশনের একটি অংশ পাবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, এসব প্যানেলে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নজিরবিহীন লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়, যা ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে খেলাপি ঋণ আদায়ে এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে একে আইনি রূপ দেওয়া হচ্ছে।
নীতিমালার আওতায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী সংস্থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইন পেশা, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা কিংবা বিচারকার্যে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া, আবেদনপত্রে গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠান যদি গ্রাহকের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে, স্বার্থের সংঘাত গোপন করে কিংবা নীতিমালার কোনো প্রধান শর্ত লঙ্ঘন করে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে তাদের তালিকাভুক্তি স্থগিত করতে পারবে। এছাড়া দুর্নীতি, জালিয়াতি, গুরুতর অনিয়ম বা পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে তালিকাবহির্ভূত করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হলে চলমান কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য অন্য কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তদারকি করবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।





























