ইকবাল সেন্টার ছেড়ে শান্তা পিনাকলে প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাশ্রয় বছরে ৫৬ কোটি
- আপডেট সময় : ০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ‘ইকবাল সেন্টার’ থেকে প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকল ভবন থেকে পরিচালিত হবে। শান্তা পিনাকল দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট ভবন, যার নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের এপ্রিলে শেষ হয়েছে।
নতুন এই স্থানান্তরের ফলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভবন ভাড়া বাবদ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ইকবাল সেন্টারের ২২ তলা ভবনের ১৯ তলায় ১ লাখ ২২ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিতে ব্যাংকটিকে প্রতি বর্গফুটে ৫০৬ টাকা ভাড়া এবং ৫০ থেকে ৬০ টাকা সেবা মাশুল দিতে হতো। এতে মাসিক ভাড়া বাবদ ৬ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা খরচ হতো, যা বছরে দাঁড়াত ৭৪ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, শান্তা পিনাকল ভবনে ব্যাংকটি ১ লাখ ১ হাজার ৯২০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়েছে। এখানে প্রতি বর্গফুট ভাড়া ১৫০ টাকা এবং সেবা মাশুল ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন ভবনে মাসিক ভাড়া বাবদ খরচ হবে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এতে প্রতি মাসে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সাশ্রয় হওয়ায় বছরে ব্যাংকটির মোট সাশ্রয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান জানান, ব্যাংকটিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কর্মপরিবেশের উন্নতির জন্য প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন শাখা স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে অনেক বেশি ভাড়া দিতে হতো, যা এখন কমে আসছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক সূচকের উন্নতি ঘটবে।
উল্লেখ্য, প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ২৬ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের মালিকানাধীন ভবনের জায়গা নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংককে ভাড়া দিয়ে বাজারের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করতেন। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংক ছেড়ে দেন এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। এইচ বি এম ইকবালের সংশ্লিষ্টতা থাকায় গুলশান ও বারিধারা শাখাও সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানান্তরের সময় বাধার মুখে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর মফিজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২ আগস্ট সার্ভার স্থানান্তরের জন্য ট্রাক ভাড়া করলে ৩০-৪০ জন বহিরাগত ব্যক্তি চাবি নিয়ে নেয় এবং জোর করে মালপত্র নামিয়ে নেয়। এমনকি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের কক্ষেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান জানান, তিনি সে সময় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রিমিয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ১৬টি মামলা তদন্ত করছে এবং গত সপ্তাহে এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয় সিলগালা করেছে।
এরপর ২০-২৫ জনের অজ্ঞাতনামা দলটি ইকবাল সেন্টারের ১৪ তলায় চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের কক্ষে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করে।





























