ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবার কল্যাণে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে গণপিটুনি, উদ্ধার শিশু ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ১৮শ কোটি টাকার প্রকল্পে বিএনপির আনন্দ র‍্যালি সাহিত্যে নোবেল জয়ের দৌড়ে এগিয়ে অ্যান কারসন ও কান শুয়ে জ্বালানি সংকটে বন্ধ দেশের ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩ কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে এডিবির সহযোগিতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং জানিয়েছেন, দেশের সব অঞ্চলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। এর মাধ্যমে একটি উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকালে ইয়িংমিং ইয়াং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তিনি এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। ইয়াং উল্লেখ করেন, প্রবাসী আয়, সেবা খাত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে, যা এখন গভীর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এই গতি ধরে রাখতে কর প্রশাসনের শক্তিশালীকরণ, ব্যাংক খাতের সুশাসন, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার মতো কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি মত দিয়েছেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সাশ্রয়ী জ্বালানির সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাজারকে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলাই এই প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় কমিয়ে বড় শহরের বাইরেও অর্থনৈতিক সুযোগ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেন ইয়াং। তিনি বলেন, পরিবহন, জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি এডিবির ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে’ উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষক, উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প নয়, বরং এগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে এডিবির সহযোগিতা

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং জানিয়েছেন, দেশের সব অঞ্চলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। এর মাধ্যমে একটি উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকালে ইয়িংমিং ইয়াং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তিনি এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। ইয়াং উল্লেখ করেন, প্রবাসী আয়, সেবা খাত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে, যা এখন গভীর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এই গতি ধরে রাখতে কর প্রশাসনের শক্তিশালীকরণ, ব্যাংক খাতের সুশাসন, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার মতো কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি মত দিয়েছেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সাশ্রয়ী জ্বালানির সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাজারকে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলাই এই প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় কমিয়ে বড় শহরের বাইরেও অর্থনৈতিক সুযোগ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেন ইয়াং। তিনি বলেন, পরিবহন, জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি এডিবির ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে’ উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষক, উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প নয়, বরং এগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin