ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা খসে আহত ডিউটি অফিসার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৮ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে অটো মামলা সিস্টেম বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপের আভাস, দেশজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির শঙ্কা ঢাকায় চাঁদপুর জেলা বিসিএস অফিসার্স ফোরামের নতুন কমিটি গঠন পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় দুই নারী অ্যাথলেট আজীবন নিষিদ্ধ, পদক বাতিল প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে বালুর প্রলেপ বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করব, জামায়াতকে নুরের হুঁশিয়ারি ভারতে আ.লীগ নেতাদের মধ্যে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব: প্রকাশ্যে ক্ষোভ স্বাধীনতা দিবসে জেন-জি প্রজন্মকে বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিদ্যুতের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহার, মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব গ্রহণ করায় একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ছেড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকেরা। তাঁরা এখন তাদের মূল কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে।

এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল ব্যবসায়ী এস আলমের দখলে। তারা উভয়ই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একীভূতকরণ শুরুর পর প্রথমে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই মো. আবেদুর রহমান সিকদার এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যায়ক্রমে তাদের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

বর্তমানে এমডি এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বসে অন্য ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে শাখাগুলো রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও মহাখালী এলাকায় ছড়িয়ে থাকায় সবগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি ব্যবসায়িক পরিচালনায় না থাকলেও নিয়ন্ত্রক হিসেবে পূর্ণ তদারকি বজায় রাখবে। তিনি আরও জানান, দ্রুতই জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে ৪-৫ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পুরোনো কর্মকর্তাদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংককে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এই পাঁচ ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলোর অধীনে মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সফল করতে কঠোর তদারকি বজায় রাখা অপরিহার্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন চেয়ারম্যান ও এমডির নেতৃত্বে দ্রুত যোগ্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে যাতে রূপান্তর প্রক্রিয়া লাইনচ্যুত না হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহার, মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে

আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব গ্রহণ করায় একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব ছেড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকেরা। তাঁরা এখন তাদের মূল কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে।

এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল ব্যবসায়ী এস আলমের দখলে। তারা উভয়ই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একীভূতকরণ শুরুর পর প্রথমে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই মো. আবেদুর রহমান সিকদার এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যায়ক্রমে তাদের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

বর্তমানে এমডি এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বসে অন্য ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে শাখাগুলো রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও মহাখালী এলাকায় ছড়িয়ে থাকায় সবগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি ব্যবসায়িক পরিচালনায় না থাকলেও নিয়ন্ত্রক হিসেবে পূর্ণ তদারকি বজায় রাখবে। তিনি আরও জানান, দ্রুতই জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে ৪-৫ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পুরোনো কর্মকর্তাদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংককে একটি একক ও শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এই পাঁচ ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলোর অধীনে মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সফল করতে কঠোর তদারকি বজায় রাখা অপরিহার্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন চেয়ারম্যান ও এমডির নেতৃত্বে দ্রুত যোগ্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে যাতে রূপান্তর প্রক্রিয়া লাইনচ্যুত না হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo