ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগস্টের প্রথম ৫ দিনে দেশে এলো ৬০২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দুর্বল ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্নবিত্ত, সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমলো ৩২৬৬ টাকা গফরগাঁওয়ে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, আশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পশ্চিমবঙ্গে লাউডস্পিকার অপসারণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ ৮ জন নিহত বগুড়ায় বাসচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত, আহত অন্তত ১০ জেদ্দায় তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

দুর্বল ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের দিনই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই খেলাপি ঋণের এই ভয়াবহ চিত্র তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা রয়েছে। সরকার ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বাছাই করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি বন্ধ করা হচ্ছে এবং বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে এই চারটি প্রতিষ্ঠানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।

অন্যদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৬৩৫ কোটি টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে ২৬০ কোটি টাকা, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডে ৯৭৬ কোটি টাকা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্বল ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের দিনই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই খেলাপি ঋণের এই ভয়াবহ চিত্র তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা রয়েছে। সরকার ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বাছাই করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি বন্ধ করা হচ্ছে এবং বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে এই চারটি প্রতিষ্ঠানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।

অন্যদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৬৩৫ কোটি টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে ২৬০ কোটি টাকা, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডে ৯৭৬ কোটি টাকা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh