বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিলেন চিংফেং ঝাং
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চিংফেং ঝাং। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
চিংফেং ঝাং এখন থেকে বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, যা ব্যাংকটির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচি। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে দিক-নির্দেশনা দেওয়াই হবে তার মূল দায়িত্ব।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সফলভাবে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ সময় তিনি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন কৌশলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পেশাগত জীবনে তিনি কৃষি, খাদ্য ব্যবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশ ও গ্রামীণ উন্নয়নে রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেছেন।
চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ও হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে এডিবিতে সদস্যপদ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য ব্যাংকটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করা একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের সদস্য দেশের সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।



























