ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে একা সফল হওয়া সম্ভব নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মাদক অপরাধীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানান এবং বলেন, মাদক অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের বিরামপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বিনাইল ইউনিয়ন, জোতবানী ইউনিয়ন ও মুকুন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মা, ভাই-বোন, মুরব্বিরা যারা এখানে বসে আছেন—আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট এটা দমন করতে পারবে না। কে কোন গ্রামে-পাড়ায়, কোনদিক দিয়ে মাদক ঢোকে, কে বিক্রি করে, কে খায়—এটা আপনারা-আমরা যত ভালো জানি, থানা পুলিশ তত ভালো জানে না।’’ তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের দায়িত্ব হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা। তবে জনগণ সহযোগিতা করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তার নিজের।

তিনি উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত এবং কারা মাদক দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে নষ্ট করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মাদক গ্রহণের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, মাদকাসক্তির কারণে সমাজে অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে।

মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘প্রত্যেক পাড়া, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’’

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং জনসচেতনতা ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলা করা সম্ভব। মন্ত্রী পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ডা. মো. জাভেদ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোছাদ্দেক হোসেন তোছা, উপজেলা সভাপতি বিএনপির মিয়া শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী রুবেল চৌধুরী, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে একা সফল হওয়া সম্ভব নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মাদক অপরাধীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানান এবং বলেন, মাদক অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের বিরামপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বিনাইল ইউনিয়ন, জোতবানী ইউনিয়ন ও মুকুন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মা, ভাই-বোন, মুরব্বিরা যারা এখানে বসে আছেন—আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট এটা দমন করতে পারবে না। কে কোন গ্রামে-পাড়ায়, কোনদিক দিয়ে মাদক ঢোকে, কে বিক্রি করে, কে খায়—এটা আপনারা-আমরা যত ভালো জানি, থানা পুলিশ তত ভালো জানে না।’’ তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের দায়িত্ব হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা। তবে জনগণ সহযোগিতা করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তার নিজের।

তিনি উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত এবং কারা মাদক দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে নষ্ট করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মাদক গ্রহণের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, মাদকাসক্তির কারণে সমাজে অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে।

মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘প্রত্যেক পাড়া, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’’

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং জনসচেতনতা ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলা করা সম্ভব। মন্ত্রী পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ডা. মো. জাভেদ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোছাদ্দেক হোসেন তোছা, উপজেলা সভাপতি বিএনপির মিয়া শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী রুবেল চৌধুরী, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin