ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজাপাকসে সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও ভুল নীতি দেশটিকে ইতিহাসের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত করে। তৎকালীন গোটাবাইয়া রাজাপাকসে সরকারের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সময়ে ইস্টার হামলা এবং করোনা মহামারির কারণে পর্যটন ও প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়।

২০২১ সালে সরকার আকস্মিকভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নিষিদ্ধ করে জৈব কৃষিতে রূপান্তরের চেষ্টা চালায়, যা ধান ও চায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিপুল বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হয়। এসব ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়লে ২০২২ সালে সংকট চরমে পৌঁছায়।

বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানি অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংকটে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং শুরু হয় এবং মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য মানুষকে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়াতে হয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া বা সার্বভৌম ঋণখেলাপি ঘোষণা করে। এই অর্থনৈতিক দুর্ভোগ থেকে সৃষ্ট গণ-অভ্যুত্থান বা ‘আরাগালায়া’-এর মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

সংকটের দুই বছর পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বামপন্থি নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার সরকার রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আইএমএফ-এর সহায়তায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা বর্তমানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রীলঙ্কার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়, যেখানে রাজস্ব দুর্বলতা ও ভুল নীতি রোধ করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের সামপ্রতিক হিসাবে, শ্রীলঙ্কা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ, যা ওই বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের আগের ৩.৫ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, তিন বছর আগেও যে দেশটি ঋণখেলাপি হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ছিল, সংস্কারের মাধ্যমে সেই দেশই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প

আপডেট সময় : ০১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজাপাকসে সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও ভুল নীতি দেশটিকে ইতিহাসের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত করে। তৎকালীন গোটাবাইয়া রাজাপাকসে সরকারের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সময়ে ইস্টার হামলা এবং করোনা মহামারির কারণে পর্যটন ও প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়।

২০২১ সালে সরকার আকস্মিকভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নিষিদ্ধ করে জৈব কৃষিতে রূপান্তরের চেষ্টা চালায়, যা ধান ও চায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিপুল বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হয়। এসব ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়লে ২০২২ সালে সংকট চরমে পৌঁছায়।

বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানি অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংকটে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং শুরু হয় এবং মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য মানুষকে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়াতে হয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া বা সার্বভৌম ঋণখেলাপি ঘোষণা করে। এই অর্থনৈতিক দুর্ভোগ থেকে সৃষ্ট গণ-অভ্যুত্থান বা ‘আরাগালায়া’-এর মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

সংকটের দুই বছর পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বামপন্থি নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার সরকার রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আইএমএফ-এর সহায়তায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা বর্তমানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রীলঙ্কার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়, যেখানে রাজস্ব দুর্বলতা ও ভুল নীতি রোধ করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের সামপ্রতিক হিসাবে, শ্রীলঙ্কা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ, যা ওই বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের আগের ৩.৫ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, তিন বছর আগেও যে দেশটি ঋণখেলাপি হয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ছিল, সংস্কারের মাধ্যমে সেই দেশই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin