ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

কিশোরগঞ্জের কৈতরীপাড়ার ৩ কিমি সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সহশ্রাম কৈতরীপাড়ার তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, যা শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনছে।

সহশ্রাম ছাইমুন্নেচ্ছা ফাযিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, হেঁটে মাদরাসায় যাওয়াও দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, জুতা হাতে নিয়ে কাদাপানি পেরিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় রিকশা বা গাড়ি উল্টে সহপাঠীরা আহতও হয়েছে। সড়কটি দ্রুত ঠিক না করলে আমাদের পড়ালেখার চরম ক্ষতি হচ্ছে।”

কৈতরীপাড়া গ্রামের গর্ভবতী নারী মদিনা বেগম এই ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “আমাদের মতো গর্ভবতী আর বয়স্ক রোগীদের জন্য এই রাস্তাটি যেন একটা মৃত্যুর ফাঁদ। কোনো জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে চাইলে গাড়ি আসতে চায় না। ঝাঁকুনিতে পেটের সন্তান নিয়ে ভয়ে থাকতে হয়। গত সপ্তাহেও এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায়ই প্রসবের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই কষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভূঞা অভিযোগ করেন, এই দুটি গ্রাম দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলার শিকার। বিগত সময়ে কোনো জনপ্রতিনিধি রাস্তাটির খোঁজখবর নেননি, যার ফলে সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও বেগতিক হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সুরে সহশ্রাম ধুলদিয়া ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এই দুই এলাকার শিক্ষার্থী, গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা এই রাস্তাটির জন্য প্রতিদিন অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। জনস্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কারে তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহরম আলী জানান, তিনি রাস্তাটির বেহাল দশার কথা অবগত আছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে এলজিইডি অফিসে নতুন প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পাস হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ এই প্রসঙ্গে বলেন, “জনভোগান্তির বিষয়টি আপনার মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, রাস্তাটি দ্রুত পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং প্রাক্কলন তৈরি করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহশ্রাম ছাইমুন্নেচ্ছা ফাযিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, রাস্তার যে অবস্থা, হেঁটে মাদরাসায় যাওয়াও দায় হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের কৈতরীপাড়ার ৩ কিমি সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ১২:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সহশ্রাম কৈতরীপাড়ার তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, যা শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনছে।

সহশ্রাম ছাইমুন্নেচ্ছা ফাযিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, হেঁটে মাদরাসায় যাওয়াও দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, জুতা হাতে নিয়ে কাদাপানি পেরিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় রিকশা বা গাড়ি উল্টে সহপাঠীরা আহতও হয়েছে। সড়কটি দ্রুত ঠিক না করলে আমাদের পড়ালেখার চরম ক্ষতি হচ্ছে।”

কৈতরীপাড়া গ্রামের গর্ভবতী নারী মদিনা বেগম এই ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “আমাদের মতো গর্ভবতী আর বয়স্ক রোগীদের জন্য এই রাস্তাটি যেন একটা মৃত্যুর ফাঁদ। কোনো জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে চাইলে গাড়ি আসতে চায় না। ঝাঁকুনিতে পেটের সন্তান নিয়ে ভয়ে থাকতে হয়। গত সপ্তাহেও এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায়ই প্রসবের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই কষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভূঞা অভিযোগ করেন, এই দুটি গ্রাম দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলার শিকার। বিগত সময়ে কোনো জনপ্রতিনিধি রাস্তাটির খোঁজখবর নেননি, যার ফলে সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও বেগতিক হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সুরে সহশ্রাম ধুলদিয়া ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এই দুই এলাকার শিক্ষার্থী, গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা এই রাস্তাটির জন্য প্রতিদিন অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। জনস্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কারে তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহরম আলী জানান, তিনি রাস্তাটির বেহাল দশার কথা অবগত আছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে এলজিইডি অফিসে নতুন প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পাস হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ এই প্রসঙ্গে বলেন, “জনভোগান্তির বিষয়টি আপনার মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, রাস্তাটি দ্রুত পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং প্রাক্কলন তৈরি করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহশ্রাম ছাইমুন্নেচ্ছা ফাযিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, রাস্তার যে অবস্থা, হেঁটে মাদরাসায় যাওয়াও দায় হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh