ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডেঙ্গুর চাপ সামাল দিতে খুমেক হাসপাতালে নতুন ওয়ার্ড চালু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে এই ওয়ার্ডের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চার গুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৬৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জনসহ মোট ৯৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল খুমেক হাসপাতালেই নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬৬৭ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন মারা গেছেন। ৫০০ শয্যার খুমেক হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের ওয়ার্ডের পাশাপাশি করিডোর, মেঝে, এমনকি হাসপাতালের বাইরেও চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। সেই অর্থ দিয়ে ৩০টি আধুনিক বেড কিনে এই নতুন ওয়ার্ডটি চালু করা হলো।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণে খুলনা নগরীতে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রক্ত সংগ্রহে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এদিকে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বলেন, "শুধু হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে জোরদার করতে হবে। তা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।"

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "নতুন ডেঙ্গু ইউনিট চালু হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমবে। তবে শুধু বেড স্থাপন করলেই হবে না; অক্সিজেন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স এবং ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর চাপ সামাল দিতে খুমেক হাসপাতালে নতুন ওয়ার্ড চালু

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে এই ওয়ার্ডের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চার গুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৬৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জনসহ মোট ৯৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল খুমেক হাসপাতালেই নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬৬৭ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন মারা গেছেন। ৫০০ শয্যার খুমেক হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের ওয়ার্ডের পাশাপাশি করিডোর, মেঝে, এমনকি হাসপাতালের বাইরেও চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। সেই অর্থ দিয়ে ৩০টি আধুনিক বেড কিনে এই নতুন ওয়ার্ডটি চালু করা হলো।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণে খুলনা নগরীতে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রক্ত সংগ্রহে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এদিকে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বলেন, "শুধু হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে জোরদার করতে হবে। তা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।"

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "নতুন ডেঙ্গু ইউনিট চালু হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমবে। তবে শুধু বেড স্থাপন করলেই হবে না; অক্সিজেন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স এবং ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh