ডেঙ্গুর চাপ সামাল দিতে খুমেক হাসপাতালে নতুন ওয়ার্ড চালু
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে এই ওয়ার্ডের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চার গুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৬৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জনসহ মোট ৯৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল খুমেক হাসপাতালেই নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬৬৭ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন মারা গেছেন। ৫০০ শয্যার খুমেক হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের ওয়ার্ডের পাশাপাশি করিডোর, মেঝে, এমনকি হাসপাতালের বাইরেও চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। সেই অর্থ দিয়ে ৩০টি আধুনিক বেড কিনে এই নতুন ওয়ার্ডটি চালু করা হলো।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণে খুলনা নগরীতে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রক্ত সংগ্রহে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এদিকে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বলেন, "শুধু হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে জোরদার করতে হবে। তা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।"
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "নতুন ডেঙ্গু ইউনিট চালু হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমবে। তবে শুধু বেড স্থাপন করলেই হবে না; অক্সিজেন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স এবং ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।"




























