ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের

পান চাষে রবিউলের সাফল্য: বরেন্দ্র অঞ্চলে বাড়ছে আগ্রহ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে পান চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক রবিউল ইসলাম। গত বছর মাত্র এক কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পান বরজ তৈরি করে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায়, এবার তিনি তার বরজের পরিসর বাড়িয়ে ১০ কাঠা করেছেন। তার এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও পান চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

রবিউল ইসলাম জানান, রাজশাহীর মোহনপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় তিনি সেখানকার কয়েকজন পানচাষির সংস্পর্শে আসেন। তাঁদের বরজ দেখে তিনি পান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে রবিউল নিজ এলাকায় পান চাষ শুরু করেন এবং বরজ তৈরির পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে শেখেন।

পান চাষের লাভজনক দিক সম্পর্কে রবিউল বলেন, “প্রথমে বরজ তৈরি করতে খরচ হয় এবং পরিশ্রমও করতে হয়। তবে একবার বরজ তৈরি হলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অন্য অনেক ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হতে পারে।”

রবিউলের এই সাফল্য দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও পান চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এখানে আমরা সাধারণত ধানসহ অন্য ফসল চাষ করি। রবিউলের পান বরজ দেখে ভালো লাগছে। পান চাষে লাভ হলে আমরাও করার কথা ভাবছি।” কৃষক সেতাউর রহমানও একই মত প্রকাশ করে বলেন, “পান বরজ করতে শুরুতে খরচ আছে। কিন্তু একবার বরজ হয়ে গেলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হতে পারবেন।”

কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম মনে করেন, রবিউলের বরজ দেখে অনেকেই পান চাষের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, “কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া গেলে অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।”

নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আকরাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় পান চাষের সম্ভাবনা আছে। পান চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিতে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, পান চাষে রোগবালাই, সেচ ও বাজারদরের মতো কিছু ঝুঁকি থাকলেও, সঠিক পরিচর্যা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে বরেন্দ্র অঞ্চলে এ চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পান চাষের জন্য বিখ্যাত সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক পানের বরজ রয়েছে। এখানকার পান চাষিরা মূলত গত ১০০ বছর যাবত বংশানুক্রমে পান চাষ করে আসছেন। এসব পানের বরজে মাঝেমধ্যে শত শত পর্যটকও ঘুরে আসেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

পান চাষে রবিউলের সাফল্য: বরেন্দ্র অঞ্চলে বাড়ছে আগ্রহ

আপডেট সময় : ১১:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে পান চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক রবিউল ইসলাম। গত বছর মাত্র এক কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পান বরজ তৈরি করে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায়, এবার তিনি তার বরজের পরিসর বাড়িয়ে ১০ কাঠা করেছেন। তার এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও পান চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

রবিউল ইসলাম জানান, রাজশাহীর মোহনপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় তিনি সেখানকার কয়েকজন পানচাষির সংস্পর্শে আসেন। তাঁদের বরজ দেখে তিনি পান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে রবিউল নিজ এলাকায় পান চাষ শুরু করেন এবং বরজ তৈরির পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে শেখেন।

পান চাষের লাভজনক দিক সম্পর্কে রবিউল বলেন, “প্রথমে বরজ তৈরি করতে খরচ হয় এবং পরিশ্রমও করতে হয়। তবে একবার বরজ তৈরি হলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অন্য অনেক ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হতে পারে।”

রবিউলের এই সাফল্য দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও পান চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এখানে আমরা সাধারণত ধানসহ অন্য ফসল চাষ করি। রবিউলের পান বরজ দেখে ভালো লাগছে। পান চাষে লাভ হলে আমরাও করার কথা ভাবছি।” কৃষক সেতাউর রহমানও একই মত প্রকাশ করে বলেন, “পান বরজ করতে শুরুতে খরচ আছে। কিন্তু একবার বরজ হয়ে গেলে কয়েক বছর পান পাওয়া যায়। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হতে পারবেন।”

কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম মনে করেন, রবিউলের বরজ দেখে অনেকেই পান চাষের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, “কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া গেলে অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।”

নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আকরাম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় পান চাষের সম্ভাবনা আছে। পান চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিতে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, পান চাষে রোগবালাই, সেচ ও বাজারদরের মতো কিছু ঝুঁকি থাকলেও, সঠিক পরিচর্যা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে বরেন্দ্র অঞ্চলে এ চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পান চাষের জন্য বিখ্যাত সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক পানের বরজ রয়েছে। এখানকার পান চাষিরা মূলত গত ১০০ বছর যাবত বংশানুক্রমে পান চাষ করে আসছেন। এসব পানের বরজে মাঝেমধ্যে শত শত পর্যটকও ঘুরে আসেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin