ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে জেলি পুশ করা সাড়ে ৪৫০ কেজি চিংড়ি ধ্বংস কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ছায়ানটের শরৎ উৎসব সাহিত্যে নোবেল জয়: অ্যান কারসনের সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে লেখককুল রোববার ভারত সফরে যাচ্ছে তিন সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৪ ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল সিরাজগঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেলেন ২ পুলিশ কর্মকর্তা

মেহেন্দিগঞ্জে মাদরাসা ভবন নির্মাণে অনিয়ম, কাঠগড়ায় প্রকৌশলী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নবনির্মিত একটি মাদরাসা ভবনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণের মাত্র চার মাস পার হতেই ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে, দেয়ালের প্লাস্টার হাত দিয়ে চাপ দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে এবং বিমের রড বেরিয়ে এসেছে। উপজেলার ভাসানচরে নির্মিত সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার একতলা ভবনের এই জরাজীর্ণ দশার জন্য জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বড় ধরনের looting বা লুটপাট চালানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দের আওতায় সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার নতুন এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ১২২ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এর ড্রয়িং, ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ তদারকি ও হস্তক্ষেপে নজিরবিহীন অনিয়ম শুরু হয়।

মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভবনের ঢালাইয়ের কাজ এতটাই নিম্নমানের হয়েছে যে মাত্র চার মাসের মাথায় সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসরুমের ভেতরে পানি চুইয়ে পড়ছে। এছাড়া ভবনে যে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের, লোহার জানালাগুলো ঢিলা হয়ে খুলে নিচে পড়ে গেছে এবং ছাদে বসানো ৫০০ লিটারের পানির ট্যাংকিটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

অনিয়মের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আঃ গনি হাওলাদার বলেন, ভবনটি তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ৩য় গ্রেডের বা চার নম্বর পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সিমেন্ট না দেওয়ায় ছাদ থেকে অনবরত খোঁয়া ও বালু খসে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই অনিয়মের জন্য আমি ঠিকাদারকে দোষ দেব না, কারণ প্রকৌশলী বিপ্লব নিজেই সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে থেকে কাজ তদারকি করতেন এবং ঠিকাদারের কাজের প্রশংসা করতেন। এতে সহজেই বোঝা যায় অনিয়মের টাকা কার পকেটে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী স্বপন ও আজগর আলী জানান, ৩ নম্বর ইট যা হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যেত, তা দিয়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে। মাত্র চার মাসের মাথায় যদি ভবনের এই দশা হয়, তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এখানে ক্লাস করবে তা নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সহকারী প্রকৌশলী এই নিম্নমানের কাজ দেখেও না দেখার ভান করেছেন।

ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদরাসার সুপার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের গণস্বাক্ষরও যুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম বলেন, আমরা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সরকারি এতগুলো টাকা বরাদ্দের পর এই নিম্নমানের কাজ করায় কার পকেটে কত টাকা ঢুকেছে, তা বের করে সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসসহ জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তবে অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস দাবি করেছেন, ফাইনাল বিল নিয়ে ঠিকাদারের সাথে কিছুটা জটিলতা ছিল, যা ইতিমধ্যে পাস হয়ে গেছে। কাজ এখনো কিছু বাকি আছে এবং যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তা দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জানান, অভিযোগের লিখিত কপি এখনো পাননি, তবে নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মেহেন্দিগঞ্জে মাদরাসা ভবন নির্মাণে অনিয়ম, কাঠগড়ায় প্রকৌশলী

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নবনির্মিত একটি মাদরাসা ভবনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণের মাত্র চার মাস পার হতেই ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে, দেয়ালের প্লাস্টার হাত দিয়ে চাপ দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে এবং বিমের রড বেরিয়ে এসেছে। উপজেলার ভাসানচরে নির্মিত সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার একতলা ভবনের এই জরাজীর্ণ দশার জন্য জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বড় ধরনের looting বা লুটপাট চালানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দের আওতায় সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার নতুন এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ১২২ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এর ড্রয়িং, ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ তদারকি ও হস্তক্ষেপে নজিরবিহীন অনিয়ম শুরু হয়।

মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভবনের ঢালাইয়ের কাজ এতটাই নিম্নমানের হয়েছে যে মাত্র চার মাসের মাথায় সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসরুমের ভেতরে পানি চুইয়ে পড়ছে। এছাড়া ভবনে যে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের, লোহার জানালাগুলো ঢিলা হয়ে খুলে নিচে পড়ে গেছে এবং ছাদে বসানো ৫০০ লিটারের পানির ট্যাংকিটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

অনিয়মের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আঃ গনি হাওলাদার বলেন, ভবনটি তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ৩য় গ্রেডের বা চার নম্বর পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সিমেন্ট না দেওয়ায় ছাদ থেকে অনবরত খোঁয়া ও বালু খসে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই অনিয়মের জন্য আমি ঠিকাদারকে দোষ দেব না, কারণ প্রকৌশলী বিপ্লব নিজেই সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে থেকে কাজ তদারকি করতেন এবং ঠিকাদারের কাজের প্রশংসা করতেন। এতে সহজেই বোঝা যায় অনিয়মের টাকা কার পকেটে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী স্বপন ও আজগর আলী জানান, ৩ নম্বর ইট যা হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যেত, তা দিয়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে। মাত্র চার মাসের মাথায় যদি ভবনের এই দশা হয়, তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এখানে ক্লাস করবে তা নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সহকারী প্রকৌশলী এই নিম্নমানের কাজ দেখেও না দেখার ভান করেছেন।

ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদরাসার সুপার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের গণস্বাক্ষরও যুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আমিন কালাম বলেন, আমরা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সরকারি এতগুলো টাকা বরাদ্দের পর এই নিম্নমানের কাজ করায় কার পকেটে কত টাকা ঢুকেছে, তা বের করে সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসসহ জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তবে অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস দাবি করেছেন, ফাইনাল বিল নিয়ে ঠিকাদারের সাথে কিছুটা জটিলতা ছিল, যা ইতিমধ্যে পাস হয়ে গেছে। কাজ এখনো কিছু বাকি আছে এবং যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তা দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জানান, অভিযোগের লিখিত কপি এখনো পাননি, তবে নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin