কক্সবাজারে প্রবাসীর গেস্ট হাউস দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ, ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০১:২১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের পর্যটন জোনে অবস্থিত একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি, অবৈধ দখল ও অনৈতিক ব্যবসার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শরণ আবাসিক প্রকল্পের ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’ নামের এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রবাসী ফরিদুল আলমের বিশ্বাস ভেঙে ভাড়াটিয়া নজিরুল ইসলাম কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পিএমখালীর বাসিন্দা ও গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই নজিরুল সেখানে অবৈধ দেহব্যবসা ও ইয়াবা কেনাবেচাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এসব ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর মালিক ফরিদুল আলম তাকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে নজিরুল দখল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি ২০২৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও লাঠিয়াল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি গেস্ট হাউসটি নিজের দখলে রাখার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিশেষ শর্তে চতুর্থবারের মতো ছয় মাসের চুক্তি করা হয়। শর্ত ছিল, এরপর আর কোনো চুক্তি হবে না এবং বকেয়া ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও নজিরুল গেস্ট হাউস ছাড়েননি। উল্টো ২০২৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে নতুন চুক্তিপত্র তৈরির অভিযোগ ওঠে। এ সময় মালিককে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
গত ১৩ আগস্ট এক সালিশি বৈঠকে নজিরুলের চুক্তিপত্রটি জাল প্রমাণিত হয় এবং বকেয়া ৬ লাখ টাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর নজিরুলকে গেস্ট হাউসের দখল ছাড়তে হয়। তবে মালিকপক্ষের অভিযোগ, চলে যাওয়ার আগে রাতের আঁধারে গেস্ট হাউসের টেলিভিশন ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেন নজিরুল। এরপর গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় উল্টো মালিক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে উচ্ছেদের অভিযোগ এনে মামলা করেন নজিরুল। এ নিয়ে তিনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সদুত্তর দিতে না পেরে কৌশলে চলে যান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে নামমাত্র ভাড়ায় গেস্ট হাউসটি পরিচালনা করছিলেন নজিরুল। ২০১৭ সালে বছরে ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়, যেখানে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত ছিল। তারও সাত বছর আগে থেকে মালিক বিদেশে থাকায় বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষের দাবি, নজিরুল সমুদ্রসৈকত থেকে পর্যটকদের প্রলোভন দেখিয়ে গেস্ট হাউসে এনে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতেন এবং ইয়াবা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। যদিও নজিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।



























